লক্ষ্মীর ভাণ্ডার অতীত, এবার পুরুষের অ্যাকাউন্টে ঢুকল অন্নপূর্ণা যোজনার ৩০০০ টাকা! পুরুলিয়ায় তুমুল শোরগোল

লোকসভা নির্বাচনের পর বাংলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটলেও সরকারি প্রকল্পের টাকা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। অতীতে তৃণমূল সরকারের আমলে পুরুষদের অ্যাকাউন্টে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর টাকা ঢুকে যাওয়ার ভুরিভুরি অভিযোগ সামনে এসেছিল। আর এবার রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর সরাসরি এক পুরুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকে গেল ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র তিন হাজার টাকা! এই বেনজির ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরুলিয়া জেলার রঘুনাথপুর শহরে এখন তীব্র চাঞ্চল্য ও শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
পাসবই আপডেট করতেই চক্ষু চড়কগাছ!
রঘুনাথপুর শহরের বাসিন্দা স্বদেশপ্রিয় মাহাতো। স্থানীয় একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখায় তাঁর একটি সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্ট রয়েছে। গত বুধবার নিজের অ্যাকাউন্টের পাসবই আপডেট করতে ব্যাঙ্কে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বইয়ে প্রিন্ট হওয়া টাকার অঙ্ক দেখামাত্রই কার্যত হতভম্ব হয়ে যান স্বদেশবাবু। দেখা যায়, গত ৩রা জুন তাঁর অ্যাকাউন্টে সরকারি ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র খতিয়ান থেকে সরাসরি ৩,০০০ টাকা জমা হয়েছে।
সততার নজির, টাকা ফেরাতে প্রশাসনের দ্বারে যুবক:
ভুলবশত নিজের অ্যাকাউন্টে সরকারি টাকা চলে এসেছে বুঝতে পেরে এক মুহূর্তও দেরি করেননি স্বদেশপ্রিয় মাহাতো। ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের টাকা যাতে দ্রুত সরকারি তহবিলে ফেরত নেওয়া হয়, তার জন্য তিনি সরাসরি রঘুনাথপুর মহকুমা শাসকের (SDO) কার্যালয়ে হাজির হন। সেখানে পাসবুকের জেরক্স কপি জমা দেওয়ার পাশাপাশি টাকা ফেরত নেওয়ার জন্য একটি লিখিত আবেদনও পেশ করেন। স্বদেশবাবু জানান, “পাসবুক আপডেট করতেই দেখি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা এসেছে। আমি এসডিও-র কাছে লিখিতভাবে টাকা ফেরত নেওয়ার জন্য আবেদন করেছি। উনি যেভাবে নির্দেশ দেবেন, সেই অনুযায়ী আমি টাকাটা ফেরত দিয়ে দেব।”
“তৃণমূলের আধিকারিকদের কারসাজি”— বিস্ফোরক রাজ্যের মন্ত্রী:
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই প্রশাসনিক মহলের পাশাপাশি তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে রাজনৈতিক অলিন্দেও। বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী নদীয়ার চাঁদ বাউরী। ঘটনার পেছনে গভীর ষড়যন্ত্রের গন্ধ পেয়ে তিনি সরাসরি পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। মন্ত্রী বলেন, “তৃণমূলের আমলে প্রচুর পুরুষ বেআইনিভাবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পেয়েছিল। রাজ্যে এখন সরকার বদল হলেও প্রশাসনের কিছু আধিকারিক এখনও বদল হয়নি, যারা আগে তৃণমূলের হয়ে কাজ করত। আমাদের মনে হচ্ছে, তাঁদের হাত ধরেই এই ভুল বা কারসাজি করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি আমরা কড়া তদন্ত করে দেখছি। যাঁরা প্রকৃত যোগ্য প্রাপক, অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা শুধু তাঁরাই পাবেন।”
মুর্শিদাবাদের জালিয়াতি চক্রের ছায়া পুরুলিয়াতেও?
উল্লেখ্য, ঠিক একদিন আগেই মুর্শিদাবাদে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার জালিয়াতি চক্রের পর্দাফাঁস করে বিডিও অফিসের বেশ কয়েকজন ডেটা এন্ট্রি অপারেটরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ ছিল, তাঁদের হাত ধরেই শয়ে শয়ে পুরুষের অ্যাকাউন্টে জালিয়াতি করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাঠানো হচ্ছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই পুরুলিয়ায় নতুন সরকারের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ নিয়ে এমন বিভ্রাট কি কেবলই টেকনিক্যাল সমস্যা নাকি এর নেপথ্যেও রয়েছে কোনও বড় চক্রের হাত, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে মহকুমা প্রশাসন।