“প্রথম দিনই বিধায়ক রুদ্রদাকে কড়া গালাগাল!” ছবি মুক্তির পরই কেন ট্রোলিংয়ের ভয়ে কাঁপছেন অনুষা বিশ্বনাথন?

পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের জনপ্রিয় ছবি ‘হাওয়া বদল’-এর সিক্যুয়েলে এবার এক্কেবারে নতুন জুটিকে দেখতে পেতে চলেছেন দর্শক। এই ছবিতে অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষের বিপরীতে জুটি বেঁধেছেন টলিউডের উঠতি ও প্রতিভাবান অভিনেত্রী অনুষা বিশ্বনাথন। তবে পর্দার বাইরে ব্যক্তিগত জীবনে রুদ্রনীল ও অনুষার বয়সের ফারাক ২০ বছরেরও বেশি! এত বড় বয়সের ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও অন-স্ক্রিন রোম্যান্স করতে গিয়ে ঠিক কেমন অভিজ্ঞতা হলো? টলিপাড়ার অন্দরের নানা চড়াই-উতরাই ও পারিশ্রমিক বৈষম্য নিয়ে এবার এক সাক্ষাৎকারে মুখ খুললেন অনুষা।
২০ বছরের বড় রুদ্রনীলের সঙ্গে মিষ্টি রোম্যান্স:
বয়সের বিপুল ফারাক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অনুষা বিশ্বনাথন জানান, ছবিতে তাঁদের অন-স্ক্রিন বয়সের ব্যবধান এতটা বেশি মনে হবে না। ছবিতে অনুষার চরিত্রটি বয়সে ছোট হলেও বেশ পরিণত, অন্যদিকে রুদ্রনীলের চরিত্রটি একজন ব্যান্ড মেম্বারের এবং স্বভাবের দিক থেকে বেশ ছেলেমানুষীতে ভরা। চরিত্রের রসায়ন নিয়ে অনুষা বলেন, “ছবিতে আমাদের মধ্যে খুব মিষ্টি একটা রোম্যান্স আছে। এখানে কোনও উগ্র যৌনতা নেই, বরং একটা সুন্দর কেমিস্ট্রি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।”
“বিধায়ককে প্রথম দিনই গালাগাল!” ট্রোলিংয়ের ভয় অনুষার:
ছবির প্রথম ঝলক বা টিজার মুক্তি পেতেই দেখা গিয়েছে, অনুষার চরিত্রটি রুদ্রনীলের চরিত্রকে বেশ কড়া ভাষায় গালাগাল দিচ্ছে। এই নিয়ে হাসতে হাসতে অনুষা বলেন, “শুটিংয়ের প্রথম দিনই রুদ্রদার সঙ্গে আমার অত্যন্ত কঠিন দৃশ্য ছিল। প্রথমবার ওঁর সঙ্গে কাজ করছি, আর প্রথম দিনই বলতে হলো— ‘বাতেলা…না…’। ৪ মে ভোটের রেজাল্টের পরই ছবির ঝলক মুক্তি পেয়েছে। আমি তো মনে মনে ভাবলাম, এই রে! একজন বিধায়ককে এভাবে গালাগাল দিলাম, লোকজন আবার রাজনৈতিকভাবে অন্য কিছু ভেবে ট্রোলিং শুরু না করে দেয়! যদিও ছবির শুটিং হয়েছে আজ থেকে তিন বছর আগে।”
১২ হাজারের কাজ ৮ হাজারে! পারিশ্রমিক নিয়ে বিস্ফোরক অনুষা:
টলিউডে কাজের সুযোগ এবং বর্তমান পরিবেশ নিয়ে অত্যন্ত স্পষ্টবক্তা অনুষা। টলিপাড়ায় কম কাজ পাওয়া এবং স্বজনপোষণ নিয়ে অভিনেত্রী জানান, “আমি খুব বেশি কাজ হয়তো করিনি, তবে ভালো পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করেছি। টলিউডে ফেভারিটিজম বা স্বজনপোষণ আমি ওভাবে দেখিনি। তবে শেষ কয়েক বছরে ইন্ডিপেনডেন্ট বা স্বাধীন পরিচালকেরা অনেকেই ছবি করতে চেয়েও টলিউডের পরিবেশের কারণে করতে পারেননি। তাই আমারও কাজ কিছুটা কমেছে।”
এর পরেই টলিউডের লিঙ্গবৈষম্য ও পারিশ্রমিকের পার্থক্য নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন তিনি। অনুষা বলেন, “টলিউডে অভিনেত্রীদের পারিশ্রমিক অভিনেতাদের তুলনায় অনেক কম। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একজন অভিনেতাকে একটা চরিত্রের জন্য ১২ হাজার টাকা দেওয়া হলে, আমাকে হয়তো একই কাজের জন্য ৮ হাজার টাকা অফার করা হবে। এত বছর ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার পরও পারিশ্রমিক নিয়ে যেভাবে দরদাম করতে হয়, সেটা সত্যিই অত্যন্ত বিব্রতকর।” পাশাপাশি, অনেক প্রযোজক-পরিচালক চরিত্র নিয়ে আসার আগে শিল্পীকে নিয়ে ন্যূনতম রিসার্চটুকুও করেন না বলে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।
ব্রেকআপ ভুলে এখন শুধুই কাজ:
ব্যক্তিগত জীবনে অনুষা কিছুদিন আগেই একটি কঠিন ব্রেকআপ বা সম্পর্কের ভাঙনের মধ্য দিয়ে গিয়েছেন। বর্তমানে তাঁর প্রেমের জীবন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে অভিনেত্রী মুচকি হেসে জানান, এই মুহূর্তে প্রেম নিয়ে ভাবার মতো সময় তাঁর নেই। এখন তিনি সম্পূর্ণভাবে নিজের ক্যারিয়ারে মন দিতে চান। ‘হাওয়া বদল’-এর পর খুব শীঘ্রই মুক্তি পেতে চলেছে চৈতী ঘোষাল পরিচালিত তাঁর আরও একটি ছবি ‘নেভারমাইন্ড’। আটকে থাকা কাজগুলো পরপর মুক্তি পাওয়াই এখন তাঁর জীবনের প্রধান ফোকাস।