ইন্ডিয়া জোটে মহাধস! শুভেন্দুর উপস্থিতিতে গভীর রাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাড়িতে ক্ষুব্ধ ২০+ সাংসদ, এবার কি সরকার বদল?

লোকসভা নির্বাচনের পর এবার দেশের জাতীয় রাজনীতিতে এক মস্ত বড় ভূমিকম্পের ইঙ্গিত! গত সোমবারের পর বুধবার রাতে দিল্লিতে ফের এক হাইভোল্টেজ গোপন বৈঠকে বসলেন বিক্ষুব্ধ সাংসদেরা। বিশেষ সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, বুধবার রাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের দিল্লির বাসভবনে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে এই মেগা বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর এই বৈঠকের পর থেকেই জাতীয় রাজনীতি তথা বাংলার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চরম শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
সোমবারের পর বুধবার, দিল্লিতে আবার বড় খেলা:
গত সোমবার সকালে দিল্লিতে যখন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠক চলছিল, ঠিক তখনই সমান্তরালভাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে ক্ষুব্ধ সাংসদদের এক গোপন বৈঠক বসেছিল। সেই বৈঠকে অন্তত ২০ জন সাংসদ উপস্থিত ছিলেন। ঠিক তার দু’দিন কাটতে না কাটতেই বুধবার রাতে ফের একই জায়গায় বৈঠকে বসেন তাঁরা। সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে আগের ২০ জন সাংসদ ছাড়াও বেশ কিছু নতুন মুখের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। তবে ঠিক কোন কোন নতুন মুখ এদিন হাজির ছিলেন, তা এখনও গোপন রাখা হয়েছে। তবে এই বৈঠকের মাঝেই যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষের নাম নিয়ে তীব্র জল্পনা তৈরি হলেও, তিনি সশরীরে উপস্থিত ছিলেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এনডিএ-কে সমর্থনের চিঠি, স্পিকারের দরবারে কাকলি:
এরই মধ্যে গত সোমবার তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এক বিস্ফোরক দাবি করে রাজনৈতিক মহলকে চমকে দিয়েছিলেন। তিনি জানান, ২০ জন সাংসদের সই করা একটি বিশেষ চিঠি ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। আগের দিনের বৈঠকে শর্মিলা ঠাকুর, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, জগদীশ বসু নিয়া, কালীপদ সোরেন, অরূপ চক্রবর্তী, অসিত মাল, শতাব্দী রায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, পার্থ ভৌমিক এবং স্বয়ং কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মতো হেভিওয়েট নামগুলির উপস্থিতি জানা গিয়েছিল। কাকলি ঘোষ দস্তিদার সাফ জানিয়েছেন, তাঁরা লোকসভায় এনডিএ (NDA) সরকারকে সমর্থন করবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনুমান, আগামী দিনে এই বিক্ষুব্ধ সাংসদদের সংখ্যা আরও বহুলাংশে বাড়তে পারে।
সায়নী ঘোষকে নিয়ে কেন বাড়ছে ধোঁয়াশা?
সাম্প্রতিককালে সদ্য সাংসদ হওয়া সায়নী ঘোষকে একটি বড় দলীয় পদ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু দলীয় পদ পাওয়ার ঠিক পর পরই যেভাবে এই বিদ্রোহী সাংসদদের তালিকায় তাঁর নাম জড়িয়ে জল্পনা ছড়াচ্ছে, তাতে তৃণমূল শিবিরের অন্দরে অস্বস্তি ও আশঙ্কা দুই-ই চরমে পৌঁছেছে।
দিল্লির বুকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাসভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এই বিক্ষুব্ধ সাংসদদের ঘন ঘন বৈঠক কি তবে দেশে এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জন্ম দিতে চলেছে? বাংলার রাজনীতির অলিন্দে এই বিদ্রোহের জল শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, এখন সেদিকেই নজর গোটা দেশের।