ফিরহাদও কি এবার মমতার হাত ছাড়ছেন? ‘নব তৃণমূল ব্লকে’ যোগদানের জল্পনায় মুখ খুললেন প্রাক্তন মেয়র!

বাংলার রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন আলোড়ন! এবার কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের অন্যতম বিশ্বস্ত সেনাপতি ফিরহাদ হাকিমও শিবির বদল করতে চলেছেন? বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই হাইভোল্টেজ জল্পনায় তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। জল্পনা ছড়িয়েছে, ফিরহাদ হাকিম আজই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘নব তৃণমূল ব্লকে’ যোগ দিতে পারেন। এই বিষয়ে আজ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও কলকাতার প্রাক্তন মেয়র যে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন, তাতে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
শিবির বদলের প্রশ্নে ফিরহাদের রহস্যময় নীরবতা:
আজ বিধানসভায় যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের একগুচ্ছ অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখে পড়েন ফিরহাদ হাকিম। “আপনি কি ঋতব্রত শিবিরে যাচ্ছেন?” বা “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন হয়েও কেন শিবির বদলাচ্ছেন?”— সংবাদমাধ্যমের এই সমস্ত তীক্ষ্ণ প্রশ্নের জবাবে ফিরহাদ হাকিম কোনও স্পষ্ট উত্তর দেননি। অত্যন্ত গম্ভীর মুখে তিনি বারবার শুধু বলেন, “দয়া করে আমাকে এ ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞাসা করবেন না। আমি কিছু বলতে চাই না।” দলবদলের জল্পনা সরাসরি উড়িয়ে না দিয়ে তাঁর এই রহস্যময় নীরবতা রাজনৈতিক মহলে জল মাপার কৌশল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অভিষেকের বাড়িতে নোটিস ও মেয়রের ক্ষোভ:
এরই মধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পুরসভার নোটিস পাঠানো এবং সেখান থেকে কোনও উত্তর না আসায় পুরসভার কড়া পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মেজাজ হারান ফিরহাদ। তিনি ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন, “আমি এখন মেয়র নই। আমায় কেন এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করছেন এখন? প্লিজ এ ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞাসা করবেন না।”
বিধানসভায় আজই কি বড় চমক?
রাজনৈতিক অন্দরমহলের অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি করা তৃণমূলের এই বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়া বিধায়কদের সংখ্যা একলাফে বেড়ে ৬৫-তে দাঁড়াতে চলেছে। আর এই বিশাল ফাটল ধরার নেপথ্যে ফিরহাদ হাকিমের এক বড় ভূমিকা রয়েছে বলে দলেরই একটি অংশ দাবি করছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিধানসভায় ফিরহাদ হাকিমের যাওয়ার কথা রয়েছে। এখন দেখার, বিধানসভার অলিন্দে পা রেখে ববি হাকিম সত্যিই কোনও বড় চমক দেন নাকি ধোঁয়াশা বজায় রাখেন।