“অভিষেককে নিয়ে চললে আমি আর নেই!” সরাসরি বিদ্রোহ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে কি ফের অস্বস্তি বাড়ল? ফিরহাদ হাকিমের পর এবার দলের অন্দরে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন লোকসভার চিফ হুইপ ও দলের প্রবীণ নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভায় সই জাল কাণ্ডের মামলাকে কেন্দ্র করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দেগে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে কার্যত আল্টিমেটাম দিয়ে বসলেন তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত কলকাতা হাইকোর্টে অভিষেকের করা একটি মামলাকে কেন্দ্র করে। এদিন এই মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর ছেলে শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী হিসেবে কাজ করার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলে অন্য আইনজীবী নিয়োগের বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি কল্যাণ।

এদিন ক্ষুব্ধ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন, “গতকাল রাত ১২টা ৩০ মিনিটে আমাকে জানানো হয় মামলা করার দরকার নেই। এরপর আজ হঠাৎ অন্য আইনজীবীকে নিয়োগ করা হলো কেন? এই ঔদ্ধত্যের একটা সীমা থাকা উচিত।”

দলের বর্তমান পরিস্থিতি ও পরাজয় নিয়েও চরম হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। কল্যাণ সরাসরি নিশানা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তিনি বলেন, “এসি রুমের রাজনীতির কারণেই দল হেরেছে। অনেক হয়েছে, আমি আর নেই।”

এখানেই থামেননি শ্রীরামপুরের সাংসদ। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এবার সিদ্ধান্ত নিতে হবে তিনি কাকে পাশে রাখবেন। কল্যাণ বলেন, “দিদিকে ঠিক করতে হবে— অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে চলবেন, না কি আমার মতো সৎ এবং পুরোনোদের নিয়ে চলবেন। যদি অভিষেককে নিয়েই চলতে হয়, তবে আমি আর নেই।”

দলীয় নেতৃত্বের প্রতি কল্যাণের এই সরাসরি চ্যালেঞ্জ ঘিরে এখন রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের অন্দরে কি সত্যিই বড় কোনো বিভাজন স্পষ্ট হচ্ছে? উঠছে সেই প্রশ্নই।

এই পরিস্থিতিতে দলের অন্য কোনো শীর্ষ নেতা বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে কল্যাণের এই মন্তব্য তৃণমূলের অস্বস্তি যে অনেকটাই বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।