বাজারের উজ্জ্বল হলুদ আম দেখেই কিনে নিচ্ছেন? অজান্তেই প্লেটে বিষ তুলছেন না তো? চিনে নিন আসল-নকল!

স্বাদ এবং সুগন্ধের রাজকীয় মেলবন্ধনের জন্য আমকে এমনি এমনি ফলের রাজা বলা হয় না। গরমের মরসুমে এই রসালো, মিষ্টি ফলটি খাওয়ার অভিজ্ঞতা সত্যিই অতুলনীয়। কিন্তু বাজার থেকে আম কেনার সময় যদি আপনি কেবল তার বাহ্যিক সৌন্দর্য এবং উজ্জ্বল হলুদ রঙ দেখে আকর্ষিত হন, তবে সাবধান! চকচকে ও নিখুঁত হলুদ আম কেনার ভুল কখনও করবেন না। কারণ কৃত্রিম ও বিষাক্ত রাসায়নিক দিয়ে এই ধরনের আম পাকানো হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। জেনেশুনে এমন আম খাওয়া আর নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারা একই ব্যাপার।
গ্রাহকদের সচেতন করতে ভারতের খাদ্য সুরক্ষা নিয়ামক সংস্থা ‘ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া’ (FSSAI) রাসায়নিকভাবে পাকানো এবং প্রাকৃতিকভাবে গাছপাকা আমের মধ্যে পার্থক্য করার ৫টি সহজ উপায় বাতলে দিয়েছে। বাজার করার সময় এই বিষয়গুলো মাথায় রাখলে আপনি সহজেই বিষমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর ফল বেছে নিতে পারবেন।
কেন এবং কীভাবে আমে বিষ মেশানো হচ্ছে?
মরসুমের শুরুতেই বাজারে আমের জোগান এবং মুনাফা বাড়াতে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সময়ের আগেই গাছ থেকে কাঁচা আম পেড়ে ফেলে। এরপর তা দ্রুত পাকানোর জন্য ‘ক্যালসিয়াম কার্বাইড’ (Calcium Carbide) নামক এক মারাত্মক রাসায়নিক পাউডার ব্যবহার করে। এফএসএসএআই (FSSAI) জানিয়েছে, এই ক্যালসিয়াম কার্বাইড থেকে অত্যন্ত বিপজ্জনক ‘অ্যাসিটিলিন’ (Acetylene) গ্যাস নির্গত হয়, যা কাঁচা আমকে জোরপূর্বক পাকিয়ে দেয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের একাধিক গবেষণায় এই রাসায়নিকটিকে মানবদেহের জন্য তীব্র বিষাক্ত বলে প্রমাণিত করা হয়েছে।
কার্বাইডে পাকানো ‘নকল’ আম চিনবেন কীভাবে?
কৃত্রিমভাবে পাকানো আম চেনার জন্য FSSAI নিচের লক্ষণগুলোর দিকে নজর দিতে বলেছে:
একটানা উজ্জ্বল রঙ: আমের গায়ের সর্বত্র কোনও খুঁত ছাড়া একই রকম উজ্জ্বল হলুদ রঙ থাকবে।
গন্ধহীন: ফলটি নাকের কাছে ধরলে আমের কোনও চেনা প্রাকৃতিক সুবাস পাওয়া যাবে না।
অস্বাভাবিক গঠন: আমটি বাইরে থেকে ছুঁলে নরম মনে হলেও, কাটার পর ভেতরে শক্ত থেকে যায়।
স্বাদহীনতা: এই আমগুলো খাওয়ার সময় কোনও মিষ্টি স্বাদ পাওয়া যায় না বা একটি অস্বাভাবিক কটু স্বাদ লাগে।
রাসায়নিকের কণা: অনেক সময় আমের বোঁটার কাছে বা গায়ে সাদা রঙের গুঁড়ো পাউডারের কণা লেগে থাকতে দেখা যায়।
প্রাকৃতিকভাবে ‘গাছপাকা’ আম চেনার উপায়:
গাছে পাকা খাঁটি আম চেনার ৫টি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো:
রঙের বৈচিত্র্য: গাছপাকা আমের রঙ কখনও পুরো একরকম হয় না। এর গায়ে সবুজ ও হলুদের মিশ্রণ বা ছোপ ছোপ দাগ থাকবে।
মিষ্টি সুবাস: আমের বোঁটার চারপাশ থেকে একটি মিষ্টি ও তীব্র প্রাকৃতিক গন্ধ বের হবে।
অভিন্ন নরম ভাব: আমটিতে আলতো চাপ দিলে এটি সবদিক থেকেই সমানভাবে সামান্য নরম অনুভূত হবে।
রসালো স্বাদ: মুখে দিলেই এর চমৎকার, মিষ্টি ও রসালো স্বাদ জিভে লেগে থাকবে।
প্রাকৃতিক দাগ: প্রাকৃতিকভাবে পাকা আমের গায়ে ছোট ছোট কালো বা কালচে দাগ থাকা অত্যন্ত স্বাভাবিক।
শরীরে কী কী ক্ষতি হতে পারে?
মার্কিন স্বাস্থ্য সংস্থা ‘এনসিবিআই’ (NCBI)-এর গবেষণা অনুসারে, ফল পাকানোর জন্য ব্যবহৃত ক্যালসিয়াম কার্বাইডের মধ্যে আর্সেনিক এবং ফসফরাসের মতো অত্যন্ত ক্ষতিকারক উপাদান থাকে, যা সরাসরি ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি ডেকে আনতে পারে। শুধু তাই নয়, বাজারে আম চকচকে ও সতেজ দেখানোর জন্য ফলের ওপর যে প্রিজারভেটিভ, ক্ষতিকর মোমের প্রলেপ এবং কৃত্রিম ফ্লেভার ব্যবহার করা হচ্ছে, তা মানবদেহে প্রবেশ করলে ক্যান্সার, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং থাইরয়েডের মতো হরমোনজনিত মারাত্মক রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।