টাকা হাতাতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা! রূপান্তরকামী সেজে ছ্যাবলামি করতেই যুবকদের কাপড় টেনে খুলে দিলেন ক্ষুব্ধ মহিলারা

কপালে চওড়া লাল টিপ, পরনে জমকালো শাড়ি, আর গয়নাগাটির সাজগোজ দেখে প্রথমটায় বোঝার বিন্দুমাত্র উপায় ছিল না যে এঁরা আসলে কারা। রূপান্তরকামী বা ‘হিজড়ে’ সেজে বিয়েবাড়িতে ঢুকে দেদার ‘নেগ’ বা বকশিসের টাকা আদায় করতে এসেছিলেন একদল যুবক। কিন্তু কথায় বলে, চোরের দশ দিন তো সাধুর একদিন! শেষরক্ষা হলো না এবার। শেষমেশ আসল রূপের পর্দাফাঁস হতেই গ্রামবাসীদের, বিশেষ করে নারীবাহিনীর চরম গণধোলাইয়ের মুখে পড়তে হলো তাঁদের। মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়ারা জেলার পরাশিয়া এলাকার দরবাই গ্রামে ঘটে যাওয়া এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার একটি ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল।

চালচলন দেখেই সন্দেহ, তারপরই ডাক পড়ল আসলদের!
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দরবাই গ্রামের একটি বিয়েবাড়ির আনন্দানুষ্ঠানে হঠাৎই একদল যুবক রূপান্তরকামী সেজে জোরপূর্বক হাজির হন। প্রথা মেনে তাঁরা নবদম্পতি ও পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের শগুন বা বকশিস দাবি করতে থাকেন। কিন্তু তাঁদের অস্বাভাবিক চালচলন, গলার আওয়াজ এবং আচরণ দেখে নিমেষেই খটকা লাগে উপস্থিত গ্রামবাসীদের। কোনও ঝুঁকি না নিয়ে স্থানীয়রা তড়িঘড়ি খবর দেন এলাকার আসল রূপান্তরকামী সম্প্রদায়ের সদস্যদের। তাঁরা অনুষ্ঠানবাড়িতে এসে ওই যুবকদের পরিচয়পত্র দেখতে চান এবং আসল রূপ যাচাই করতেই বেরিয়ে আসে বিড়ালের ছানা! জানা যায়, রূপান্তরকামী সেজে সহজ উপায়ে মোটা টাকা হাতানোর নোংরা ফন্দি এঁটেছিল একদল স্থানীয় যুবক।

হাতেনাতে ধরে জামাকাপড় টেনে খুললেন ক্ষুব্ধ মহিলারা!
প্রতারণার এই খবর চাউর হতেই বিয়েবাড়ির আনন্দঘন পরিবেশ মুহূর্তে বদলে যায় চরম উত্তেজনায়। রূপান্তরকামী সম্প্রদায়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করার অভিযোগে ক্ষোভে ফেটে পড়েন অনুষ্ঠানে উপস্থিত মহিলারা। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, প্রতারক যুবকদের একেবারে হাতেনাতে ধরে সবার সামনে তাঁদের মুখোশ খুলে দেওয়া হচ্ছে। ক্ষিপ্ত মহিলারা তাঁদের চড়-থাপ্পড়, লাথি মারতে শুরু করেন এবং একপর্যায়ে তাঁদের পরিহিত শাড়ি ও সাজগোজের পোশাকও টেনে খুলে নেওয়া হয়। চারিদিকে তখন চিৎকার আর চরম বিশৃঙ্খলা। উপস্থিত অনেকেই নিজেদের মোবাইল ক্যামেরায় এই পুরো গণধোলাইয়ের দৃশ্যটি বন্দি করেন, যা এখন নেটপাড়ার ট্রেন্ডিং তালিকায়।

এলাকায় চাপা উত্তেজনা, কী বলছে পুলিশ?
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই জেলায় এই ধরনের জালিয়াতি এবারই প্রথম নয়। এর আগেও বিভিন্ন বিয়েবাড়ি বা শুভ অনুষ্ঠানে এই যুবকেরা একইভাবে রূপান্তরকামী সেজে সাধারণ মানুষের আবেগ, সংস্কার ও বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে হাজার হাজার টাকা কামাতো। বারবার পার পেয়ে পার পেয়ে নিজেদের চালাক ভাবলেও, এবার আর ভাগ্য সহায় ছিল না তাঁদের। তবে এই ভাইরাল ভিডিও এবং নারকীয় ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় পুলিশের তরফ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনও সরকারি বয়ান বা প্রতিক্রিয়া মেলেনি। পুরো বিষয়টি নিয়ে এলাকায় এখনো চরম চাপা উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য রয়েছে।