অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তিতে ‘বেআইনি’ নির্মাণ! ৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে কড়া পদক্ষেপ কলকাতা পুরসভার

বেআইনি নির্মাণ ইস্যুতে এবার আরও কঠোর অবস্থানের পথে হাঁটছে কলকাতা পৌরনিগম। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংশ্লিষ্ট ১৭-২১টি সম্পত্তিতে বেআইনি নির্মাণ ভাঙার বিষয়ে এবার নড়েচড়ে বসল পুরসভা। কলকাতা পুরসভার কমিশনার তথা প্রশাসক স্মিতা পান্ডে বিল্ডিং এবং অ্যাসেসমেন্ট বিভাগকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে ওই সম্পত্তিগুলির বর্তমান ‘স্ট্যাটাস’ রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
কী পদক্ষেপ নিচ্ছে পুরসভা?
পুরনিগম সূত্রে খবর, বিল্ডিং আইনের ৪০০(১) ধারায় অভিযুক্ত সম্পত্তিগুলোতে ইতিমধ্যে নোটিস পাঠানো হয়েছে। তবে এবার আর কোনো বাড়তি সময় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন কমিশনার। হাইকোর্টের তরফে এই সংক্রান্ত নির্দেশ আসার পরই পুরসভা এই চূড়ান্ত পদক্ষেপের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যদি কোনো সম্পত্তিতে বেআইনি অংশ চিহ্নিত হয়, তবে কলকাতা পৌরনিগম তা ভেঙে ফেলার পূর্ণ ক্ষমতা রাখে।
কমিশনারের তলব:
গত সপ্তাহের শেষের দিকে পুরসভার বিল্ডিং ও অ্যাসেসমেন্ট বিভাগের কর্তাদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক করেন কমিশনার স্মিতা পান্ডে। পৌর ও নগরোন্নয়ন দফতরের নির্দেশের পরেই এই তৎপরতা শুরু হয়েছে। কমিশনার বিল্ডিং বিভাগের কর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন, দ্রুত ওই সম্পত্তিগুলির নথিপত্র এবং বর্তমান অবস্থার রিপোর্ট জমা দিতে। এই রিপোর্ট হাতে আসার পরই ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতা:
ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি-র হাজিরা সংক্রান্ত জট এবং অন্যান্য আইনি টানাপোড়েনের মাঝেই পুরনিগমের এই নতুন পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, হাইকোর্টের এই নির্দেশ কার্যকর করা নিয়ে এখন প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। পুরসভার এক আধিকারিকের কথায়, “আদালতের নির্দেশ যেহেতু স্পষ্ট, তাই কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে আর দেরি করা হবে না।”
এখন দেখার বিষয়, পাঁচ দিনের ডেডলাইন শেষ হওয়ার পর পুরসভা ঠিক কী ধরনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং তা নিয়ে পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়।