ফেরারির প্রথম ইলেকট্রিক কার ‘লুসে’ এল বাজারে: ডিজাইন নিয়ে উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া!

বিলাসবহুল সুপারকারের জগতে নতুন ইতিহাস গড়ল ইতালীয় জায়ান্ট ‘ফেরারি’। সংস্থাটি তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ি (EV) ‘লুসে’ (Ferrari Luce) বিশ্বমঞ্চে উন্মোচন করেছে। দুর্দান্ত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা থাকলেও, গাড়ির ডিজাইন নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
ডিজাইন ঘিরে কেন এত বিতর্ক? ফেরারির চিরাচরিত স্পোর্টি এবং মার্জিত লুকের সঙ্গে লুসের ডিজাইনের পার্থক্য অনেক। বড় আকারের এই ইলেকট্রিক এসইউভি-টির সামনের অংশ ও সামগ্রিক অনুপাত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কার প্রেমীরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে তো এটিকে ‘ফেরারি ব্যাজ লাগানো অ্যাপলের গাড়ি’ বলে কটাক্ষ করছেন। এর পেছনে মূল কারণ, এই গাড়িটির নকশা তৈরিতে নেতৃত্ব দিয়েছে প্রাক্তন অ্যাপল ডিজাইনার স্যার জনি আইভের নেতৃত্বাধীন একটি সংস্থা। ফেরারির ঐতিহ্যবাহী পিউরোসাঙ্গুয়ের তুলনায় এই ডিজাইন অনেকটাই ছকভাঙা, যা অনেক ভক্তের কাছেই মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
প্রযুক্তি ও পারফরম্যান্স প্রযুক্তির দিক থেকে লুসে কিন্তু এককথায় অনন্য। এতে রয়েছে চারটি শক্তিশালী বৈদ্যুতিক মোটর, যা ১০০০ হর্সপাওয়ারের বেশি শক্তি তৈরি করতে সক্ষম। তবে বর্তমানের হাই-এন্ড ইভি মার্কেটের নিরিখে এর ৫৩১ কিলোমিটারের রেঞ্জ অনেকের কাছে কিছুটা প্রত্যাশার চেয়ে কম মনে হয়েছে।
ইনটেরিয়রে ফেরারির পুরনো নস্টালজিয়া বাহ্যিক ডিজাইন নিয়ে বিতর্ক থাকলেও গাড়ির ভেতরের সাজসজ্জা মন জয় করেছে অটো-বিশেষজ্ঞদের। রেট্রো লুক, প্রচুর ফিজিক্যাল বাটনের ব্যবহার এবং ক্লাসিক সরু স্টিয়ারিং হুইল ফিরিয়ে এনেছে ফেরারির পুরোনো দিনের স্মৃতি। দীর্ঘ হুইলবেসের কারণে এটিই ফেরারির প্রথম পূর্ণাঙ্গ পাঁচ আসনের গাড়ি, যা কেবিনে দিচ্ছে অনেকটা জায়গা।
ভবিষ্যৎ পথচলা ল্যাম্বরগিনির মতো বড় কোম্পানিগুলো যখন বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে আসতে কিছুটা ইতস্তত করছে এবং তাদের পরিকল্পনা পিছিয়ে দিচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে ফেরারির এই সাহসী পদক্ষেপ অটোমোবাইল বিশ্বে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। লুসে কি সত্যিই ফেরারির ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে পারবে, নাকি এই সাহসী ডিজাইন সংস্থার ভাবমূর্তিতে বড় প্রভাব ফেলবে— তা সময় বলবে। তবে আপাতত, ফেরারির এই নতুন ইনিংস যে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।