পাক অধিকৃত কাশ্মীরে গণঅভ্যুত্থান! নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে শতাধিক মৃত্যু, জ্বলছে রাওয়ালকোট

পাক অধিকৃত কাশ্মীরের (POK) পরিস্থিতি বর্তমানে অগ্নিগর্ভ। অত্যাধিক মূল্যবৃদ্ধি, অগণতান্ত্রিক আচরণ এবং সরকারি নিপীড়নের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন সাধারণ মানুষ। বিক্ষোভকারী ও পাক নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ইতিমধ্যেই শতাধিক মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাওয়ালকোটসহ বিভিন্ন এলাকায় কারফিউ জারি করেছে পাক প্রশাসন, বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা।

আন্দোলনের সূত্রপাত যেভাবে
২০২৪ সালে গঠিত ‘জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’ (Joint Awami Action Committee)-র নেতৃত্বে এই আন্দোলনের সূত্রপাত। প্রাথমিকভাবে অত্যধিক বিদ্যুতের বিল, আটার দামের ঊর্ধ্বগতি এবং আর্থিক সংকটের প্রতিবাদে এই কমিটি বিপুল জনসমর্থন লাভ করে। যদিও সরকার শুরুতে কিছু দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু তা কার্যকর না হওয়ায় ক্ষোভের আগুন আবারও জ্বলে ওঠে।

কেন নতুন করে উত্তজনা?
বর্তমানে আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জম্মু-কাশ্মীরের রিফিউজিদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই আসনগুলোর মাধ্যমে তাঁদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। পাক প্রশাসন ও আদালত এই সংরক্ষিত আসন বজায় রাখার পক্ষে রায় দিলেও, সাধারণ মানুষ তা মানতে নারাজ।

এরই মধ্যে পাক সরকার ‘জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সংগঠনের সদস্যদের ধরপাকড় শুরু করেছে। এমনকি, বিক্ষোভকারীদের ধরিয়ে দিলে আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণাও করেছে ইসলামাবাদ।

স্তব্ধ জনজীবন, সরব মানবাধিকার সংগঠন
রাওয়ালকোট, মুজাফফরাবাদ এবং মীরপুরের মতো প্রধান শহরগুলোতে দোকানপাট ও যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ। অঘোষিত বনধের জেরে জনজীবন বিপর্যস্ত। সাধারণ মানুষের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর অবাধ শক্তি প্রয়োগ এবং গণহারে গ্রেফতারির ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন।

ভারতের কড়া প্রতিক্রিয়া
এই পরিস্থিতিকে পাকিস্তানের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক ব্যর্থতার চূড়ান্ত প্রতিফলন হিসেবে দেখছে ভারত। ইসলামাবাদ বরাবরের মতোই এই আন্দোলনের নেপথ্যে ভারতের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ তুললেও, নয়াদিল্লি তা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতার দায় ভারতের ওপর চাপানোর চেষ্টা পাকিস্তান বরাবরই করে এসেছে, কিন্তু এই কৌশল এবারও ব্যর্থ হবে।”

পাক অধিকৃত কাশ্মীরের এই অশান্তি শুধুমাত্র স্থানীয় ইস্যু নয়, বরং পাকিস্তানের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে ভারতসহ আন্তর্জাতিক মহল।