এক সপ্তাহে দ্বিতীয়বার ধাক্কা! তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর চাপ বাড়িয়ে ইস্তফা দিলেন সুস্মিতা

তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন যেন থামছেই না। একের পর এক শীর্ষ স্তরের নেতার দল ও পদ ছাড়ার হিড়িকে অস্বস্তিতে রাজ্যের শাসকদল। এবার রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তৃণমূলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেত্রী সুস্মিতা দেব। এক সপ্তাহের মধ্যে সুখেন্দু শেখর রায়ের পর এটি দলের দ্বিতীয় বড় পদত্যাগ, যা তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

সুস্মিতা দেবের রাজনৈতিক সফর
অসমের শিলচরের প্রাক্তন লোকসভা সাংসদ সুস্মিতা দেব দীর্ঘকাল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৯ সালে নির্বাচনে পরাজয়ের পর কংগ্রেস ছাড়েন তিনি এবং ২০২১ সালে ঘাসফুল শিবিরে নাম লেখান। তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পর খুব দ্রুতই তিনি দলের অন্যতম ভরসার মুখ হয়ে ওঠেন। তাঁকে জাতীয় মুখপাত্রের দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি রাজ্যসভার সাংসদ করেও পাঠানো হয়েছিল।

কেন এই পদত্যাগ?
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসে যেভাবে ভাঙন ধরেছে, তাতে সুস্মিতা দেবের মতো একজন নেত্রীর এই সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। দলের কঠিন সময়ে দাঁড়িয়ে তিনি যেভাবে সাংসদ পদ ছাড়লেন, তাতে তৃণমূলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ওপর চাপ আরও বাড়ল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

টানা ধাক্কায় অস্বস্তিতে তৃণমূল
গত এক সপ্তাহের মধ্যে দু’জন প্রভাবশালী সাংসদের পদত্যাগ তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক ভিতকে কিছুটা হলেও কাঁপিয়ে দিয়েছে। সুস্মিতা দেবের এই সিদ্ধান্ত ২০২৬ পরবর্তী তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতির এক চরম প্রতিকূলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। দলের জাতীয় মুখপাত্র ও রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে তিনি বেশ সক্রিয় ছিলেন, তাই তাঁর এই ইস্তফা দলের জন্য এক বড় ধাক্কা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

রাজ্য রাজনীতির বর্তমান সমীকরণে এই পদত্যাগগুলো কি তৃণমূলের ভবিষ্যতে কোনো বড় পরিবর্তনের সূচনা? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজর এখন সেদিকেই।