মমতার ডেরায় সিআইডি! কালীঘাটের পার্টি অফিসে তল্লাশি, কী খুঁজছেন গোয়েন্দারা?

বিধানসভায় সই জালিয়াতি কাণ্ডের তদন্তে নেমে মঙ্গলবার বিকেলে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল রাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি (CID)। একদিকে যেমন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির অদূরে কালীঘাটের তৃণমূল পার্টি অফিসে অভিযান চালানো হয়েছে, তেমনই অন্যদিকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসেও সিআইডি-র একটি দল তল্লাশি চালায়।
কেন এই তল্লাশি? বিধানসভার বিধায়কদের সই জালিয়াতির যে মামলাটি দায়ের হয়েছে, সেই মামলার তদন্তেই গোয়েন্দারা এই পদক্ষেপ করেছেন বলে জানা গেছে। সিআইডি সূত্রে খবর, যে বিতর্কিত লেটারহেড ব্যবহার করে বিধানসভার স্পিকারকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল, তাতে ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের এই পার্টি অফিসের ঠিকানাই উল্লেখ ছিল। এই ঠিকানার সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা ও নথিপত্র খতিয়ে দেখার লক্ষ্যেই গোয়েন্দারা সেখানে পৌঁছান।
ঘটনাস্থলে উত্তেজনা ও বাদানুবাদ: কালীঘাটের ওই পার্টি অফিসে সিআইডি-র আধিকারিকরা পৌঁছানোর পর সেখানে উপস্থিত তৃণমূল নেতাদের সাথে তাঁদের তীব্র বাদানুবাদ হয়। সিআইডি স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তদন্তের স্বার্থে তারা সেখানে উপস্থিত হয়েছে এবং তদন্ত চলাকালীন কাউকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। পরে সেখানে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ পৌঁছালেও তাঁকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে খবর।
কী উদ্ধার করল সিআইডি? প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে পার্টি অফিসে তল্লাশি চালায় সিআইডি-র বিশেষ দল। তবে তল্লাশির পর তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়েছে, অফিস থেকে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ফাইল বা নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়নি। যদিও গোয়েন্দারা এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি। সই জালিয়াতি কাণ্ডে যে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন তদন্তকারীরা, তার অকাট্য প্রমাণের খোঁজে গোয়েন্দারা ডিজিটাল ডিভাইস ও নথিপত্র পরীক্ষা করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এদিন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল, কিন্তু তিনি হাজিরা এড়ানোয় এবং বর্তমানে দিল্লির বাইরে থাকায় সিআইডি তাঁর অফিসেও হানা দেয়। এই একের পর এক ঘটনাপ্রবাহে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস বর্তমানে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে।