ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে বড় চমক মোদী সরকারের! আর লাইনে দাঁড়াতে হবে না, বাড়ল লাইসেন্সের মেয়াদ

সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের যাতায়াত ও প্রশাসনিক ভোগান্তি কমাতে বড়সড় সংস্কারের পথে হাঁটল মোদী সরকার। ড্রাইভিং লাইসেন্স (DL), গাড়ির মালিকানা হস্তান্তর এবং পারমিট নবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাগুলোকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রণালয়। লক্ষ্য একটাই—‘পেপারলেস’ এবং ‘অফিস-ভিজিট-ফ্রি’ বা দপ্তরমুখী হওয়া ছাড়াই সরকারি সেবা নিশ্চিত করা।
লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়ছে বর্তমানে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন নিয়ে চালকদের যে বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়, তা দূর করতে নতুন প্রস্তাব আনা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে চালকের বয়স ৫০ বছর না হওয়া পর্যন্ত লাইসেন্সের মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ, বারবার আরটিও অফিসে দৌড়ানোর প্রয়োজন পড়বে না। ৫০ বছর পার হওয়ার পর কেবল শারীরিক সক্ষমতা যাচাই করে লাইসেন্স নবায়ন করতে হবে। যুবক ও মধ্যবয়সী চালকদের জন্য এটি বড় স্বস্তির খবর।
ঘরে বসেই গাড়ির মালিকানা হস্তান্তর গাড়ি কেনাবেচার ক্ষেত্রে মালিকানা পরিবর্তনের যে দীর্ঘসূত্রতা ছিল, তাও এবার সহজ হতে চলেছে। নতুন নিয়মে কোনো রেজিস্ট্রেশন অফিসে না গিয়েই, সম্পূর্ণ অনলাইনে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। আধার, প্যান কার্ড এবং ডিজিটাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে কয়েক ক্লিকেই মালিকানা বদল সম্ভব হবে। এতে সময় ও অর্থ—উভয়ই সাশ্রয় হবে।
বাণিজ্যিক গাড়ির জন্য সুখবর শুধু ব্যক্তিগত গাড়ি নয়, ট্রাক, ট্যাক্সি, অটো এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক যানবাহনের পারমিট নবায়ন প্রক্রিয়াও সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার পরিকল্পনা করেছে সরকার। অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমেই প্রয়োজনীয় নথিপত্র আপলোড করে পারমিট নবায়ন করা যাবে। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বা দালাল চক্রের হাতে পড়ার ভয় আর থাকবে না।
কী বলছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী? কেন্দ্রীয় পরিবহন মন্ত্রী নিতিন গড়করি জানিয়েছেন, “ডিজিটাল ইন্ডিয়ার লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষের হয়রানি কমানো। সরকারি কাজে নাগরিকদের সময় বাঁচানোই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।”
সরকারি সূত্রে খবর, এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি রাজ্যে পাইলট প্রজেক্ট শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ফলাফল সন্তোষজনক হওয়ায় দ্রুত এটি সারা দেশে কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে।