সব্যসাচী দত্তের গ্রেফতারি নিয়ে তোলপাড়! ‘বেআইনি’ দাবিতে আদালতে সরব আইনজীবীরা, মিলল ৮ দিনের হেফাজত

বিধাননগর পুরনিগমের প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্তের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। সোমবার গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে তোলা হলে দুই পক্ষের আইনজীবীদের সওয়াল-জবাবে জমে ওঠে টানটান উত্তেজনা। আদালত সব্যসাচীকে ৮ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
আইনি লড়াই: সব্যসাচীর আইনজীবী বনাম সরকারি কৌঁসুলি আদালতে সব্যসাচী দত্তের আইনজীবী দাবি করেন, তাঁর মক্কেলকে বেআইনিভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনজীবী বলেন, ‘‘৮ তারিখে গ্রেফতার করা হলেও FIR করা হয়েছে ৯ তারিখে। FIR হওয়ার আগেই গ্রেফতারি কেন? পুলিশ চাইলে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারত। গ্রেফতারি পদ্ধতি সম্পূর্ণ বেআইনি।’’
পাল্টা জবাবে সরকারি আইনজীবী আদালতে গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেন, ‘‘সব্যসাচী দত্ত সরকারি অফিসকে নিজের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছিলেন। গুল্লু নামক এক ব্যক্তির মাধ্যমে তিনি তোলাবাজির টাকা নিতেন, যে বর্তমানে পলাতক। তদন্তে আরও অনেকের নাম উঠে আসবে এবং আরও গ্রেফতারির সম্ভাবনা রয়েছে।’’
কেন গ্রেফতার সব্যসাচী? গ্রেফতারির পর সোমবার সব্যসাচীকে যখন মেডিকেল পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন ক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে উদ্দেশ্য করে ডিম ও গোবর ছুড়ে মারে। নিউটাউন ও সল্টলেক এলাকায় সব্যসাচীর বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট চালানো এবং ঠিকাদারি সংস্থা ও ছোট ব্যবসায়ীদের থেকে তোলাবাজির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সব্যসাচীর ঘনিষ্ঠ সাগরেদরাই এই তোলাবাজির চক্রটি নিয়ন্ত্রণ করত। দীর্ঘদিনের এই ‘সিন্ডিকেটরাজ’ থেকে স্বস্তি পেতে এলাকার মানুষের একাংশ তৃণমূল নেতার গ্রেফতারিতে প্রকাশ্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।
পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং তদন্তে আর কাদের নাম উঠে আসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।