“এদের বিজেপি নেবে না”-TMC-র বিদ্রোহী সাংসদদের নিয়ে ঠিক কী বলছেন কল্যাণ?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক অভাবনীয় পালাবদল! রাজ্যে বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের পর এবার দিল্লিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বড়সড় ভাঙন। সূত্রের খবর, সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদারের নেতৃত্বে তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ দলত্যাগ করে এনডিএ (NDA)-তে যোগ দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই তালিকায় অভিনেতা ও সাংসদ দেবের নাম থাকায় রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য।
দিল্লিতে বিদ্রোহের নীল নকশা সোমবার দিল্লিতে কাকলি ঘোষদস্তিদারের বাসভবনে বিদ্রোহী সাংসদদের একটি জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। এই বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন দলত্যাগী সাংসদরা। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সখ্যতা থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা ভিন্ন পথ বেছে নিচ্ছেন। এমনকি, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেবের সাক্ষাৎ এবং তাঁর গাল টিপে আদর করার বিষয়টিও তৃণমূলের অন্দরে জল্পনার পারদ বাড়িয়ে দিয়েছে।
‘গদ্দার ও সুখের পায়রা’, আক্রমণ কল্যাণের তৃণমূলের এই ভাঙন নিয়ে মুখ খুলেছেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদ্রোহী নেতাদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন, “এরা সবাই ১৫ বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রীর কৃপায় ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে এখন দলবদল করছে। এরা সবাই ‘সুখের পায়রা’। বিজেপি এদের খুব ভালো করেই চেনে, এদের সবার দুর্নীতির রিপোর্ট গেরুয়া শিবিরের হাতেই রয়েছে।”
কল্যাণের আরও বিস্ফোরক দাবি, “বিজেপি কলঙ্কিত লোকেদের দলে নেবে না। এরা যদি সত্যিই নীতি নিয়ে কথা বলে, তবে পদত্যাগ করে বিজেপির টিকিটে জিতে এসে দেখাক। আলাদা করে কোনো ব্লকের অস্তিত্ব হয় না।” সুখেন্দুশেখর রায়ের পদত্যাগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, নীতিগতভাবে তিনি সুখেন্দুর প্রশংসা করলেও, বাকিরা কেন সাংসদ পদ ছাড়ছেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
রাজনৈতিক সমীকরণ কি বদলাচ্ছে? তৃণমূলের দাবি, যারা বিদ্রোহী হয়েছেন, তারা দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। অন্যদিকে, কাকলি ঘোষদস্তিদারের অনুগামীরা জানাচ্ছেন, উন্নয়নের স্বার্থেই তারা কেন্দ্রের শাসক শিবিরের সঙ্গে জোটবদ্ধ হতে চাইছেন। তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা ২০ জন কমে যাওয়ার অর্থ, সংসদীয় রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্তি এক ধাক্কায় অনেকটা হ্রাস পাবে।
দিল্লির এই পরিস্থিতির ওপর এখন নজর রাখছে গোটা দেশ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ভাঙন রোধে শেষ পর্যন্ত কী পদক্ষেপ নেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।