ডিপফেক রুখতে ১৩টি নতুন এআই প্রকল্পের অনুমোদন কেন্দ্রের! বড় পদক্ষেপ মোদী সরকারের

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে তৈরি ডিপফেক এবং অন্যান্য ভুয়ো কনটেন্টের ক্রমবর্ধমান প্রাদুর্ভাব রুখতে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ করল কেন্দ্র সরকার। আইনি সুরক্ষা বৃদ্ধি, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ব্যবহারকারীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সম্প্রতি এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
ডিপফেক শনাক্তকরণে ১৩টি নতুন প্রকল্পের অনুমোদন
লোকসভায় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জিতিন প্রসাদ জানান, ডিপফেক নিখুঁতভাবে শনাক্ত করার জন্য ইতিমধ্যেই ১৩টি উন্নত AI প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র। এর মধ্যে অন্যতম হল আইআইটি জোধপুর এবং আইআইটি মাদ্রাজের যৌথ উদ্যোগে তৈরি ‘সাক্ষ্য’ (Saakshya), যা একটি মাল্টি-এজেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক হিসেবে কাজ করবে। পাশাপাশি, অডিও-ভিডিয়ো জালিয়াতি ধরতে ‘AI বিশ্লেষক’ এবং রিয়েল-টাইমে ভয়েস ডিপফেক শনাক্ত করতে আইআইটি খড়গপুরের একটি পৃথক প্রকল্প বর্তমানে কাজ করছে।
সাধারণ মানুষের মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে ‘Information Security Education and Awareness’ (ISEA) প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬,৬৫১টি কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সরকারি আধিকারিকসহ ১১.৩৭ লক্ষেরও বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন।
আইটি নিয়মে বড় সংশোধন ও বাধ্যতামূলক লেবেলিং
কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, ‘IndiaAI Mission’-এর ‘Safe & Trusted AI’ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল দায়িত্বশীলভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসার ঘটানো। এরই অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘IT Rules, 2021’-এ গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন আনা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সমস্ত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা মধ্যবর্তী মাধ্যমগুলিকে কৃত্রিমভাবে তৈরি তথ্য (Synthetically Generated Information বা SGI) এবং এআই-নির্ভর ডিপফেক কনটেন্টে স্পষ্টভাবে লেবেলিং এবং ট্রেসযোগ্য মেটাডেটা যুক্ত করতে হবে। এর ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীরা সহজেই বুঝতে পারবেন কোন কনটেন্টটি আসল আর কোনটি এআই দ্বারা তৈরি। সরকারের মতে, এই ডিজিটাল লেবেলিং ব্যবস্থা ভুয়ো তথ্যের অপব্যবহার ও প্রতারণা রোধে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।