চলতি শিক্ষাবর্ষের মাঝপথে ত্রি-ভাষা নীতি! সিবিএসই-র সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ দিগ্বিজয় সিং

চলতি শিক্ষাবর্ষের মাঝামাঝি সময়ে সিবিএসই (CBSE) কর্তৃক নবম শ্রেণিতে ত্রি-ভাষা নীতি বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করলেন রাজ্যসভার সাংসদ তথা শিক্ষা বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান দিগ্বিজয় সিং। এই সিদ্ধান্তটি স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখেছেন তিনি।

দিগ্বিজয়ের আপত্তির মূল কারণসমূহ:

হঠাৎ সিদ্ধান্ত: শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়ে যাওয়ার পর হুট করে এমন বড় পরিবর্তন স্কুল, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য মারাত্মক বিভ্রান্তি ও সমস্যার সৃষ্টি করছে।

পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাব: নতুন নীতি বাস্তবায়নের আগে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, নতুন পাঠ্যপুস্তকের ব্যবস্থা বা পরিকাঠামোগত কোনো প্রস্তুতিই সম্পন্ন করা হয়নি।

এনসিইআরটি-র ভূমিকা: সিবিএসই-র পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত ছিল এনসিইআরটি (NCERT) নতুন বই প্রকাশ না করা পর্যন্ত পুরোনো পদ্ধতি বজায় রাখা। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে কেন ১৫ মে সার্কুলার জারি করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দিগ্বিজয়। এনসিইআরটি এখনো নবম শ্রেণির ভাষার বই প্রকাশ করেনি, তাই ষষ্ঠ শ্রেণির বই ব্যবহারের যে নির্দেশ সিবিএসই দিয়েছে, তা অযৌক্তিক বলে মনে করছেন তিনি।

অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ:
চিঠিতে দিগ্বিজয় সিং অতীতে সিবিএসই-র দ্রুত অন-স্ক্রিন মার্কিং (OSM) ব্যবস্থা চালুর তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, তড়িঘড়ি নেওয়া এই সিদ্ধান্তের কারণে উত্তরপত্র মূল্যায়নের মতোই বড় ধরনের অনিয়ম ও অব্যবস্থা তৈরি হতে পারে, যা লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর শিক্ষাপরিকল্পনা নষ্ট করবে।

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের দাবি:
উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের স্মারকলিপি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়ে দিগ্বিজয় সিং দ্রুত হস্তক্ষেপের আবেদন করেছেন। এর আগেও নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নিয়ে এনটিএ (NTA)-র ভূমিকা নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলেন তিনি।

শিক্ষাবিদদের একাংশের মতে, পাঠ্যক্রম বা নীতি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। শিক্ষাবর্ষের মাঝপথে এভাবে নীতি পরিবর্তন কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে এখন সিবিএসই কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সদুত্তর দাবি করছেন অভিভাবকরা।