‘মৃত্যুকে কাছ থেকে দেখলাম’-ডিম ছোড়া হল মদন মিত্রের গাড়িতে, ঘিরে ফেলল ‘১৫০’ জন!

ফের উত্তপ্ত কামারহাটি। এবার খোদ তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক মদন মিত্রের ওপর হামলার অভিযোগ উঠল। শনিবার রাতে দক্ষিণেশ্বরের দিকে যাওয়ার পথে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়েছে বলে প্রাথমিক খবর ছড়ালেও, পরে বিধায়ক নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ করে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, এটি সাধারণ ডিম ছোড়ার ঘটনা নয়, বরং তাঁকে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে লোহার রড, পাথর ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়েছিল।

ঠিক কী ঘটেছিল?

শনিবার রাত ৯টা নাগাদ একটি কাজে দক্ষিণেশ্বরে ব্লক অফিসে যাচ্ছিলেন বিধায়ক। মদন মিত্রের দাবি, আগে থেকেই তাঁর কাছে খবর ছিল যে ওই এলাকায় প্রায় ১৫০ জন দুষ্কৃতী জড়ো হয়েছে। গন্তব্যে পৌঁছাতেই তাঁর গাড়ির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ওই দুষ্কৃতীরা। মদন মিত্রের স্পষ্ট অভিযোগ, কামারহাটির কুখ্যাত দুষ্কৃতী আনোয়ার খান এই হামলার মূল চক্রী।

সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক মদন

ঘটনার পরেই ফেসবুকে লাইভে এসে বিধায়ক বলেন, “আমাকে খুন করার জন্যই ওই গুন্ডাবাহিনী পাঠানো হয়েছিল। তারা রাইফেল, গুপ্তি এবং ছুরি নিয়ে চড়াও হয়। স্থানীয় মহিলারা এগিয়ে না এলে সেদিন বড় বিপদ ঘটে যেত।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “ঘটনাটিকে লঘু করার জন্য পরে আমার গাড়িতে ডিম ছুড়ে ঘটনাটি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আমার গাড়ির কাঁচ ভাঙা হয়েছে পাথর ও লোহার রড দিয়ে।” শুধু নিজের ওপর হামলা নয়, তাঁর ঘনিষ্ঠ কর্মীদের বাড়িতেও রাতে হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।

পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ

তৃণমূলের এই বিধায়ক অভিযোগের আঙুল তুলেছেন স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের দিকেও। তাঁর দাবি, হামলার সময় বারবার ফোন করেও তিনি পুলিশের কাছ থেকে কোনো সাহায্য পাননি। আনোয়ার খানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “এই খুনি আগে আমাদের সঙ্গেই মিশত, এখন সময় বুঝে রং পাল্টেছে।”

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কামারহাটির রাজনীতি এখন তোলপাড়। তৃণমূলের অন্দরেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বিষয়টি আরও একবার এই ঘটনার মাধ্যমে প্রকাশ্যে চলে এল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ঘটনার পর থেকে গোটা এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। তবে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশি কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।