“তরুণীকে হেনস্থা ও পুরনো মামলা তোলার হুমকি!”-কাউন্সিলর জসিমুদ্দিনের বাড়িতে পুলিশের কড়া তল্লাশি

পকসো (POCSO) মামলায় নাম জড়ানোর পর এবার সরাসরি তদন্তের মুখে কলকাতা পৌরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর জসিমুদ্দিন। রবিবার ভোর থেকেই কলেজ স্ট্রিটে কাউন্সিলরের বাসভবনের এলাকা ঘিরে ফেলে জোড়াসাঁকো থানার পুলিশ। কাউন্সিলর যাতে কোনোভাবেই এলাকা ছাড়তে না পারেন, তা নিশ্চিত করতেই ভোরের আলো ফুটতেই এই অভিযান চালানো হয়।

কী অভিযোগ? ২০২৩ সালে দায়ের হওয়া এক পকসো মামলায় জসিমুদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। সেই মামলার তদন্ত ফের নতুন করে গতি পেয়েছে। অভিযোগ, শনিবার রাতে কলাবাগান এলাকায় ওই তরুণীকে একা পেয়ে কাউন্সিলর জসিমুদ্দিনের ঘনিষ্ঠরা প্রথমে কটূক্তি করে। তরুণী প্রতিবাদ জানালে তাকে মারধর ও লাথি মারার অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে। বর্তমানে ওই তরুণী মধ্য কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তরুণীর পরিবারের দাবি, পুরনো মামলাটি তুলে নেওয়ার জন্য তাদের লাগাতার চাপ দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশের পদক্ষেপ: শনিবার রাতেই তরুণীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে জোড়াসাঁকো থানায় মামলা রুজু হয়। এরপরই রবিবার সকালে পুলিশের একটি দল কাউন্সিলরের বাড়িতে হানা দেয়। পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, ইতিমধ্যে কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠ একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জসিমুদ্দিনকেও পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হবে। ‘টক টু মেয়র’ অনুষ্ঠানেও তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছিল বলে সূত্রের খবর।

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই প্রাক্তন শাসক দলের নেতা-নেত্রীদের বিরুদ্ধে একের পর এক আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে প্রশাসন। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের এই সক্রিয়তায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়েছে। বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ থেকে শুরু করে ফৌজদারি মামলা—সবই এখন পুলিশের স্ক্যানারে।