রান্নার তেলের প্যাকেটে আর কারচুপি চলবে না! বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের, জানুন নতুন নিয়ম

রান্নার তেল কিনতে গিয়ে ওজনে বা দামে ঠকার দিন শেষ! গ্রাহকদের বিভ্রান্তি কাটাতে এবং স্বচ্ছতা ফেরাতে ভোজ্য তেল বিক্রির ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। শনিবার ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রকের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এখন থেকে নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড মাপে তেল বিক্রি করতে হবে সমস্ত প্রস্তুতকারক সংস্থাকে।

বন্ধ হবে অদ্ভুত মাপের কারচুপি এতদিন বাজারে ৯১০ মিলি বা ৯৫০ মিলির মতো অদ্ভুত মাপের তেলের প্যাকেট দেখে সাধারণ মানুষ দামের তুলনা করতে গিয়ে বিভ্রান্ত হতেন। অনেক সময় বেশি টাকা দিয়েও কম পরিমাণ তেল পাওয়ার অভিযোগ উঠত। সেই ‘চতুর কৌশল’ রুখতেই এবার থেকে ৯টি নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড মাপ বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্র। ২০০ মিলিলিটার থেকে শুরু করে ২০ লিটার পর্যন্ত নির্দিষ্ট মাপে তেল বিক্রি করতে হবে। শুধু তাই নয়, প্যাকেটে লিটারের পাশাপাশি সমপরিমাণ ওজন (গ্রাম/কেজি)-ও স্পষ্টভাবে লিখে দিতে হবে।

কাদের জন্য প্রযোজ্য?

  • দেশি ও বিদেশি—সব ধরনের ভোজ্য তেলের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম কার্যকর হবে।

  • সর্ষের তেল, সোয়াবিন তেল, সূর্যমুখী, পাম অয়েল থেকে শুরু করে বাদাম তেল—সবকিছুর ওপরই এই নিয়ম বলবৎ থাকবে।

  • স্বস্তির খবর, সাধারণ মানুষের কথা ভেবে ২০০ মিলিলিটারের কম ওজনের ছোট পাউচগুলোকে এই নিয়মের বাইরে রাখা হয়েছে।

৩ মাসের সময়সীমা সরকার এই নতুন নিয়ম কার্যকর করার জন্য তেল প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলোকে ৩ মাস সময় দিয়েছে। ভোজ্য তেল শিল্পের প্রায় ৯০ শতাংশ বাজারের প্রতিনিধিত্ব করা অ্যাসোসিয়েশনগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উৎসবের মরসুমের আগেই বাজারে তেলের দামে স্বচ্ছতা আসবে বলে আশা করছে সরকার।

কেন এই সিদ্ধান্ত? বিভিন্ন কোম্পানি নিজেদের মতো করে পরিমাপের প্যাকেট তৈরি করায় ক্রেতারা আসল দাম বুঝতে হিমশিম খেতেন। সরকারের এই নির্দেশিকা কার্যকর হলে সাধারণ মানুষ খুব সহজেই ব্র্যান্ডগুলোর দামের তুলনা করতে পারবেন এবং ওজনের কারচুপির হাত থেকে মুক্তি পাবেন।