‘মমতা ম্যাডামকে গুরু মানি, কিন্তু অভিষেকই দল শেষ করলেন!’ বিস্ফোরক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়

তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সংঘাত এখন তুঙ্গে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্য থাকলেও, দলের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেই কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন বহিষ্কৃত নেতা তথা বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সিএনএন-নিউজ১৮ (CNN-News18)-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি দলের অন্দরের ক্ষোভ ও ভবিষ্যতের বড় পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিলেন।
‘অভিষেকই দলের এই দশার জন্য দায়ী’ সাক্ষাৎকারে ঋতব্রত সরাসরি অভিযোগ করেন, দলের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতির জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মপদ্ধতিই দায়ী। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আমাদের আস্থা অটুট, কিন্তু দলের এই অবস্থার জন্য অভিষেকই দায়ী।” নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে তিনি মমতাকে দলের পুনর্গঠিত বিধায়ক দলের ‘প্রধান উপদেষ্টা’ করার প্রস্তাবও দিয়েছেন।
সংখ্যা বাড়ার দাবি ঋতব্রতর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, বর্তমানে ৬১ জন বিধায়ক তাঁর নেতৃত্বকে সমর্থন করছেন। তিনি আত্মবিশ্বাসী যে, ১৮ জুন বিধানসভার অধিবেশন শুরুর আগেই এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। স্পিকার রথীন্দ্র বোস ইতিমধ্যেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রতর দাবি গ্রহণ করেছেন, যা তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া ও আইনি জট এদিকে, ঋতব্রতর এই ‘বিরোধী দলনেতা’ হয়ে ওঠাকে সম্পূর্ণ ‘বেআইনি’ বলে দাবি করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। দল এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। তবে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই ফিরহাদ হাকিমের একটি মন্তব্য নতুন জল্পনা উসকে দিয়েছে—বিধানসভায় বিরোধী শিবিরের সঙ্গে আলোচনায় বসতে তাঁর কোনও আপত্তি নেই।
রাজনীতির অন্দরে জল্পনা রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভার অধিবেশন যত কাছে আসছে, ততই তৃণমূলের অন্দরে সমীকরণ জটিল হচ্ছে। মমতার প্রতি আনুগত্য বজায় রেখেও বিধায়কদের একাংশ যেভাবে অভিষেক-বিরোধিতায় সরব হয়েছেন, তা রাজ্যের শাসকদলের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।