মমতার লোকসভা যাওয়ার পথে বাধা ইউসুফ পাঠান? বহরমপুর নিয়ে বড় বিতর্ক!

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলমান অস্থিরতার মধ্যেই এবার সামনে এল নতুন এক চাঞ্চল্যকর খবর। সূত্রের খবর, রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিক থাকতে লোকসভায় প্রবেশের জন্য বহরমপুর আসন থেকে উপনির্বাচনে লড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ালেন দলেরই সাংসদ, প্রাক্তন তারকা ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান।

ঠিক কী ঘটেছে?
জনপ্রিয় একটি সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, লোকসভায় প্রবেশের লক্ষ্য নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বহরমপুর থেকে উপনির্বাচনে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বর্তমান সাংসদ ইউসুফ পাঠানকে পদত্যাগ করার বার্তা পাঠানো হয়। এই কাজ সম্পন্ন করার জন্য সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মাধ্যমে ইউসুফ পাঠানের কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছিল বলেও খবর। কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

কেন পদত্যাগ করতে নারাজ ইউসুফ?
ওই প্রতিবেদনের দাবি, ইউসুফ পাঠান এই প্রস্তাবে রাজি হননি। তাঁর সাফ কথা, বহরমপুরের মানুষ তাঁকে ভরসা করে ভোট দিয়ে জিতিয়েছেন। মাত্র দু’বছর যেতে না যেতেই রাজনৈতিক স্বার্থে পদত্যাগ করে ভোটারদের আস্থার অমর্যাদা তিনি কোনোভাবেই করবেন না। জনমতের প্রতি সম্মান জানিয়েই তিনি সাংসদ পদ ছাড়তে অস্বীকার করেছেন বলে খবর।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বহরমপুর কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের পোড় খাওয়া নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে পরাজিত করে চমক দিয়েছিলেন ইউসুফ পাঠান। মমতার পরামর্শেই যে তিনি রাজনীতিতে পা রেখেছিলেন, তা তখন থেকেই স্পষ্ট ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে যখন দল নিজের আধিপত্য বজায় রাখতে মরিয়া, তখন সাংসদের এই অনড় অবস্থান তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি আরও বাড়াল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল।

যদিও এই খবরের সত্যতা নিয়ে ধন্দ রয়েছে, কারণ তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কিংবা খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ‘বাংলা হান্ট’-এর মতো বেশ কিছু সূত্র এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করেনি। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক তোলপাড় যে নতুন মাত্রা পেল, তা বলাই বাহুল্য।