সরকারি শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশনে নিষেধাজ্ঞা! এবার কড়া পদক্ষেপ স্কুলশিক্ষা দপ্তরের!

সরকারি স্কুলে কর্মরত শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশনির প্রবণতা রুখতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে রাজ্যের স্কুলশিক্ষা দপ্তর। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (NHRC) নির্দেশের প্রেক্ষিতে এই বিষয়ে আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা হয়েছে। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সরকারি স্কুলের শিক্ষকরা কোনোভাবেই বাইরে প্রাইভেট টিউশন দিতে পারবেন না।

কী নির্দেশ দিয়েছে স্কুলশিক্ষা দপ্তর?
রাজ্যের ২৫টি শিক্ষা জেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিদর্শকদের (DI) কাছে বৃহস্পতিবারই এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। ডিআই-দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোনো সরকারি শিক্ষকের বিরুদ্ধে গৃহশিক্ষকতার অভিযোগ পাওয়া মাত্রই যেন তা খতিয়ে দেখে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছেও এই নির্দেশিকা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, যাতে স্কুলের অন্দরেই এই নিয়ম কঠোরভাবে মানা হয়।

কেন এই কড়াকড়ি?
‘শিক্ষার অধিকার আইন ২০০৯’ অনুযায়ী, সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের গৃহশিক্ষকতায় আগেই নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ ছিল, সরকারি নির্দেশিকা ও হাইকোর্টের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বহু শিক্ষকই প্রাইভেট টিউশনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে গৃহ শিক্ষক সংগঠনের পক্ষ থেকেও এই নিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, স্কুলের শিক্ষকরা প্রাইভেট টিউশন করায় স্থানীয় গৃহশিক্ষকদের রুজিরোজগারে টান পড়ছে।

তবে কী ছাড় রয়েছে?
বিকাশ ভবনের কর্তাদের সাফ কথা, বাণিজ্যিক ভিত্তিতে প্রাইভেট টিউশন কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে জানানো হয়েছে, স্কুলের পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীদের কথা মাথায় রেখে যদি স্কুল কর্তৃপক্ষ বিশেষ ‘রেমেডিয়াল ক্লাস’-এর ব্যবস্থা করে, তবে সেখানে শিক্ষকরা পাঠদান করতে পারবেন।