মেয়র পদ থেকে ইস্তফা ফিরহাদ হাকিমের! ‘চেয়ারের সম্মান আর থাকছে না’, বিস্ফোরক ববি

বিধাননগরের পর এবার কলকাতা পুরসভাতেও বড় ভাঙন। শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে কলকাতা পুরসভার মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ফিরহাদ (ববি) হাকিম। মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ছয় মাস আগেই তাঁর এই পদত্যাগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

কেন এই পদত্যাগ? পুরভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে ফিরহাদ হাকিম জানান, মেয়রের চেয়ারটির একটি নির্দিষ্ট গরিমা ও সম্মান রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সম্মান বজায় রেখে কাজ করা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, “আমি সসম্মানে এই চেয়ারে বসেছি, সসম্মানেই বিদায় নিচ্ছি। চেয়ারের সম্মান ক্ষুন্ন করে কাজ চালানো আমার পক্ষে সম্ভব নয়।”

নেত্রীর সম্মতি ও বর্তমান পরিস্থিতি ফিরহাদ হাকিম স্পষ্ট করেছেন, তিনি এই সিদ্ধান্তের আগে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং তাঁর অনুমতি নিয়েই এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। ওমিক্রন-পরবর্তী পরিস্থিতি বা আমফানের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলায় তিনি যেভাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, বর্তমান প্রশাসনিক পরিবেশে সেই সুযোগ আর নেই বলেই তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

পুরসভার ভবিষ্যৎ কী? ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফার পর কলকাতা পুরসভার অন্দরে এখন নতুন করে বোর্ড গঠন বা প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করেছেন:

  • পুরসভার অসম্পূর্ণ কাজ নিয়ে তিনি দুঃখপ্রকাশ করেছেন।

  • তিনি পরবর্তী দায়িত্বে যারা আসবেন, তাদের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

  • একইসঙ্গে নতুন সরকারের কাছে শহরের মানুষের সেবার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

তদন্তকারী সংস্থা ও প্রশাসনিক মহলের খবর, ইতিমধ্যেই পৌর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে পরবর্তী প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিজেপির কাউন্সিলর মীনাদেবী পুরোহিত এই ঘটনাকে স্বাগত জানালেও, পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কারণেই একের পর এক পুরসভায় এমন রদবদল দেখা যাচ্ছে, যা আগামী দিনে কলকাতার প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।