কোঠারি মেডিক্যাল থেকে বেশ কিছু নামী ব্লাড সেন্টার! রক্তদান শিবিরের আড়ালে র্যাকেটের অভিযোগে তোলপাড় রাজ্য

রক্তদান শিবিরের আড়ালে নানা অনিয়ম এবং টাকার বিনিময়ে রক্ত ও প্লাজমা বাইরে পাচার করার গুরুতর অভিযোগে রাজ্যের ১১টি ব্লাড ব্যাঙ্কের রক্তদান শিবির নিষিদ্ধ ঘোষণা করল স্বাস্থ্যভবন। শুক্রবার স্বাস্থ্য দফতরের তরফে একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে কার্যকর করার কথা জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্লাড ব্যাঙ্কগুলির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে রাজ্য রক্ত সঞ্চালন পর্ষদ। তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ওই প্রতিষ্ঠানগুলি বাইরে আর কোনো রক্তদান শিবিরের আয়োজন করতে পারবে না।

নিষেধাজ্ঞার শর্ত ও নির্দেশিকা

স্বাস্থ্যভবন স্পষ্ট জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা কেবল বাইরে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, ওই সমস্ত প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পরিকাঠামো বা হাসপাতালের অন্দরে রক্তের নমুনা সংগ্রহ কিংবা লেনদেনের কাজ চালু রাখা যাবে। তবে তা অবশ্যই দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মীদের মাধ্যমে এবং সমস্ত সরকারি নিয়ম ও প্রোটোকল মেনেই করতে হবে। এর পাশাপাশি, রাজ্যের ভেতরে কোথাও রক্তের কোনো বড় ধরনের লেনদেন হলে তা অবিলম্বে রাজ্য রক্ত সঞ্চালন পর্ষদকে জানানোর কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিষিদ্ধ হওয়া ১১টি ব্লাড ব্যাঙ্কের তালিকা

নিষেধাজ্ঞার এই তালিকায় কলকাতার একাধিক নামী হাসপাতাল ও ব্লাড সেন্টারের পাশাপাশি বেশ কিছু জেলার সেন্টারও রয়েছে। তালিকায় থাকা ব্লাড ব্যাঙ্কগুলি হলো:

  1. ইস্পাত কোঅপারেটিভ হাসপাতাল ব্লাড সেন্টার (কালিকাপুর, সোনারপুর)

  2. লাইফ কেয়ার ব্লাড সেন্টার (লিন্টন স্ট্রিট, এন্টালি)

  3. অশোক ল্যাবরেটরি ব্লাড সেন্টার (যোধপুর পার্ক)

  4. কোঠারি মেডিক্যাল সেন্টারের ব্লাড সেন্টার (আলিপুর)

  5. হেল্‌থ পয়েন্ট হাসপাতালের ব্লাড সেন্টার (প্রমথ পণ্ডিত স্ট্রিট)

  6. ওম ব্লাড সেন্টার (বেলেঘাটা)

  7. এইচএমসি রাটারি ব্লাড সেন্টার (হাওড়া পুরসভা ভবন)

  8. কৃষ্ণনগর ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সের ব্লাড সেন্টার (কৃষ্ণনগর, নদীয়া)

  9. উপসম ওম ব্লাড সেন্টার (রায়গঞ্জ, উত্তর দিনাজপুর)

  10. টেরেসা ওম ব্লাড সেন্টার (শক্তিগড়, পূর্ব বর্ধমান)

  11. রানিগঞ্জ ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সের ব্লাড সেন্টার (অণ্ডাল মোড়, পশ্চিম বর্ধমান)

ঠিক কী কারণে এই কঠোর পদক্ষেপ?

রক্তদান শিবিরগুলির আড়ালে নানা অনিয়ম এবং অবৈধভাবে রক্ত ব্যবসার অভিযোগ দীর্ঘদিনের ছিল। এই ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে কিছুদিন আগেই স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকেরা কলকাতা ও বিভিন্ন জেলার বেশ কিছু ব্লাড সেন্টারে আচমকা তল্লাশি চালান। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সেখান থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রও বাজেয়াপ্ত করা হয়।

তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, নিয়ম ভেঙে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করার জন্য বহু ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হতো না। এমনকি রক্ত সংগ্রহের ক্ষেত্রেও ছিল ব্যাপক অনিয়ম। সবচেয়ে বড় ও গুরুতর অভিযোগ হলো, সাধারণ মানুষের নিঃস্বার্থ দানে পাওয়া রক্ত ও প্লাজমা মোটা টাকার বিনিময়ে গোপনে ভিন্‌রাজ্যে পাচার করে দেওয়া হতো। বর্তমানে এই সমস্ত চাঞ্চল্যকর অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তদন্ত প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই ১১টি ব্লাড সেন্টারের বাইরের শিবির করার উপরে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *