‘সবটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে!’ বিদ্রোহী নেতাদের দাবি উড়িয়ে তোপ মদন মিত্রের

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যখন বিদ্রোহের আগুন জ্বলছে, ঠিক তখনই আসরে নামলেন দলের ‘কালারফুল’ নেতা মদন মিত্র। বিদ্রোহী নেতাদের তোলা ২৩ জন সাংসদ ও দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়কের সমর্থনের দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়ে তিনি চ্যালেঞ্জ জানালেন, হিম্মত থাকলে দল ছেড়ে ভোটে জিতে দেখান!
মদনের চ্যালেঞ্জ: শুক্রবার তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মদন মিত্র বলেন, “ওরা তো বলতেই পারে গোটা দল ওদের সঙ্গে আছে। কিন্তু আড়াই কোটি মানুষ তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে ভোট দিয়েছে। যারা দল ছাড়ার কথা ভাবছে, তাদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি যে পদত্যাগ করে নিজের কেন্দ্রে আবার ভোটে লড়ার সাহস দেখাতে পারে? যদি কেউ জিতে দেখাতে পারে, আমি তাকে স্যালুট করব।”
সংকটের আবহে মমতা-অভিষেক বৈঠক: এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মদন মিত্রেরও একটি বৈঠক হয়। দলের বর্তমান টালমাটাল পরিস্থিতি এবং সাংগঠনিক রদবদল নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে থাকলেও, বৈঠকের বিষয়ে কোনো আগাম মন্তব্য করতে রাজি হননি মদন মিত্র। তিনি জানিয়েছেন, দলের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
সহকর্মীর বিদায়ে আক্ষেপ: দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সহকর্মী ফিরহাদ হাকিমের মেয়র পদ থেকে ইস্তফা প্রসঙ্গে মদন মিত্র নিজের ব্যক্তিগত হতাশার কথা চেপে রাখেননি। তিনি বলেন, “খারাপ তো লাগেই। ও আমার ভাই ও বন্ধুর মতো। এতদিন একসঙ্গে কাজ করেছি। তবে রাজনীতিতে সবকিছুই সম্ভব, এখানে অবাক হওয়ার কিছু নেই।”
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: দলের বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবির যখন দাবি করছে যে দলের সিংহভাগ জনপ্রতিনিধি তাদের সঙ্গে রয়েছেন, ঠিক তখনই মদন মিত্রের এই চ্যালেঞ্জ তৃণমূলের অন্দরে রাজনৈতিক তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তা ও ম্যান্ডেটকে পুঁজি করে বিদ্রোহী নেতাদের কোণঠাসা করাই যে এখন দলের রণকৌশল, তা মদন মিত্রের বক্তব্যে পরিষ্কার।