মেয়র পদে ইস্তফা ফিরহাদ হাকিমের: ‘চেয়ারের মর্যাদা রাখতে পারছি না’, বিদায়বেলায় আক্ষেপ!

আনুষ্ঠানিকভাবে কলকাতা পুরসভার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ হাকিম। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে সাত বছর শহরের প্রশাসনিক প্রধানের দায়িত্ব সামলানোর পর, আজ শুক্রবার পুর চেয়ারপার্সন মালা রায়ের দফতরে গিয়ে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।
কী বললেন ফিরহাদ? ইস্তফার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ ফিরহাদ হাকিম জানান, কোনো ব্যক্তিগত বিবাদ নয়, বরং চেয়ারের মর্যাদাই তাঁর কাছে প্রধান। তিনি বলেন, “আমি ইস্তফা দিলাম। চেয়ারের মর্যাদা রাখতে পারছি না, তাই এই চেয়ারের অসম্মান করতে পারব না।” ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর শোভন চট্টোপাধ্যায়ের উত্তরসূরী হিসেবে কলকাতার মেয়র পদের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন তিনি। মেয়াদের মাস ছয়েক আগেই তাঁর এই সরে দাঁড়ানো রাজনৈতিক মহলে বড় জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
বিধাননগরেও একই ছবি: ফিরহাদের পাশাপাশি আরও এক বড় ধাক্কা খেল শাসকদল। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বিধাননগর পুরনিগমের মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী। মেয়র হিসেবে তাঁর মেয়াদ আরও আট মাস বাকি ছিল। বৃহস্পতিবারই তিনি পুরনিগমের কমিশনারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। একইসঙ্গে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকেও ইস্তফার কপি পাঠিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক সমীকরণ কী বলছে? কলকাতা ও বিধাননগর—রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ দুই পুরসভার মেয়রদের পরপর পদত্যাগ তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদত্যাগগুলো বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রতিফলন।
নেত্রীর অনুমতি: সূত্রের খবর, মেয়র পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা ফিরহাদ হাকিম একাধিকবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানিয়েছিলেন। নেত্রীর সম্মতির পরই আজ তিনি এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেন।
পুরসভার মেয়ররা সরে দাঁড়ানোর ফলে কলকাতা ও বিধাননগর পুরনিগমে ক্ষমতার পালাবদল কি আসন্ন? নাকি নতুন কোনো প্রশাসনিক বিন্যাস হতে চলেছে? এই প্রশ্নই এখন রাজ্য রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।