টলিপাড়ায় বড় ধাক্কা! ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে স্বরূপ বিশ্বাস, মাথায় ঝুলছে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারা

রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই তথা টলিপাড়ার প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব স্বরূপ বিশ্বাসকে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিলেন আলিপুর আদালতের বিচারক। তোলাবাজি, হুমকি, প্রভাব খাটানো এবং এক মহিলা মেকআপ শিল্পীর সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে নিউ আলিপুর থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছিল। শুক্রবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হয়।

গুরুতর সব অভিযোগ পুলিশ সূত্রে খবর, স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় একাধিক মামলা রুজু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩০৮ ধারার ৪ ও ৫ উপধারা, ১০৯ ধারা এবং অস্ত্র আইনের ২৫ ও ২৭ ধারা। স্টুডিওপাড়ায় টেকনিশিয়ানদের কাছ থেকে জোর করে টাকা তোলা, হুমকি দেওয়া এবং শ্লীলতাহানির মতো ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার সভাপতি হিসেবে দীর্ঘ দিন টলিপাড়ার শুটিং-এর ওপর তাঁর একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল বলে অভিযোগ।

থানা চত্বরে বিক্ষোভ স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারির পর থেকেই নিউ আলিপুর থানার সামনে স্থানীয় মানুষ ও আক্রান্ত কলাকুশলীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা গিয়েছে। তাঁকে স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের একাংশ ‘চোর’ স্লোগান তুলে বিক্ষোভ দেখান। এতদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভ স্বরূপের গ্রেফতারির পর প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে।

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাঞ্চল্য এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে টলিপাড়ার অন্দরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এতদিন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খোলার সাহস পাননি বলে অভিযোগ। এখন স্বরূপের এই জেলযাত্রা স্টুডিওপাড়ার ‘থ্রেট কালচার’ বা অশুভ সিন্ডিকেট ভাঙার পথে বড় পদক্ষেপ বলে মনে করছেন অনেকে। এদিকে, স্বরূপের গ্রেফতারির পর রাজ্য রাজনীতিতেও শুরু হয়েছে তরজা। সব মিলিয়ে স্বরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে দানা বাঁধা এই আইনি জটিলতা আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে টলিপাড়া ও রাজ্যবাসী।