২২ লক্ষ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি! নিট দুর্নীতি কি কেবল হিমশৈলের চূড়া?

গত ৩রা মে অনুষ্ঠিত নিট ইউজি (NEET UG) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরবর্তীতে তা বাতিল হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। ২২ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন আজ অনিশ্চয়তার মুখে। সরকার আগামী ২১শে জুন নতুন করে পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছে এবং কঠোর নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, কিন্তু প্রশ্ন রয়েই যায়—এই চক্রের পান্ডারা কি সত্যিই শাস্তি পাবে? নাকি বরাবরের মতোই আইনি জালে ধামাচাপা পড়ে যাবে এই দুর্নীতি?

কেন এই পরিস্থিতি?
পরীক্ষা বাতিলের ধাক্কায় মানসিক অবসাদে ভুগে কালাবুরগি, লাতুর এবং মৌগঞ্জের আকাঙ্ক্ষা চতুর্বেদীর মতো মেধাবী শিক্ষার্থীরা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। এটি কেবল একটি পরীক্ষার বিপর্যয় নয়, বরং আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার ওপর শিক্ষার্থীদের আস্থার সংকট।

দুই দশকের ভয়ংকর পরিসংখ্যান
‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠে:

গত ২০ বছরে ৪৫টি প্রধান পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে।

প্রতিটি পরীক্ষায় গড়ে কমপক্ষে ১ লক্ষ আবেদনকারী ছিলেন।

দুঃখজনকভাবে, এই ৪৫টি মামলার মধ্যে মাত্র দুটি ক্ষেত্রে অপরাধীরা দোষী সাব্যস্ত হয়েছে।

বাকি মামলাগুলোর বেশিরভাগই বছরের পর বছর ধরে আদালতে বিচারাধীন অথবা আইনি মারপ্যাঁচে বন্ধ হয়ে গেছে।

অপরাধীদের কি আদৌ বিচার হয়?
তথ্য বলছে, বিগত দুই দশকে ১,৬৫৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও মাত্র ১৮ জন দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।

২০০২ ও ২০১০ সালের দুটি রেলওয়ে (RRB) পরীক্ষায় যারা দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল, তারাও আপিলের সুযোগে বর্তমানে জামিনে মুক্ত। অর্থাৎ, সাজা পাওয়ার পরেও তারা দীর্ঘ মেয়াদে জেলে নেই।

২০০৩ সালের CAT পরীক্ষা, ২০০৬ সালের রেলওয়ে গ্রুপ ডি, ২০১৫ সালের UPSC প্রিলি—এমন অসংখ্য হাই-প্রোফাইল মামলার বিচার প্রক্রিয়া আজও সাক্ষ্যগ্রহণ বা প্রাথমিক স্তরে আটকে আছে।

কেন বিচার প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে?
১. সাক্ষী ও তথ্যের অভাব: অধিকাংশ ক্ষেত্রে তদন্তের পর সঠিক প্রমাণ জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ে।
২. দীর্ঘসূত্রিতা: মামলার শুনানি বছরের পর বছর চললে মূল অভিযুক্তরা সহজেই জামিন পেয়ে যায়।
৩. আইনি ফাঁকফোকর: তদন্তকারী সংস্থাগুলোর গাফিলতি এবং আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা অপরাধীদের জন্য একটি ‘সুরক্ষাকবচ’ হিসেবে কাজ করে।

বড় প্রশ্ন: আমরা কি শিখছি?
আজকের নিট দুর্নীতি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। যখন দেখা যায় যে, বিগত ২০ বছরে ৪৫টি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দায়বদ্ধতা প্রায় শূন্যের কোঠায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে হাজার হাজার পুলিশ মোতায়েন করাই কি একমাত্র সমাধান? নাকি আমাদের প্রয়োজন স্বচ্ছ বিচার এবং দোষীদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি?