কলকাতা পুরসভায় ফের বড় সংঘাতের ইঙ্গিত! ১৯ জুনের অধিবেশন ঘিরে তৈরি হলো নতুন জটিলতা

কলকাতা পুরসভার (KMC) অন্দরে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। গত ২২ মে-র বিতর্কিত অধিবেশনের রেশ কাটতে না কাটতেই, আগামী ১৯ জুনের মাসিক অধিবেশন ঘিরে ফের নতুন করে জটিলতা তৈরির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই অধিবেশন ডাকা হবে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শাসক দল ও পুর প্রশাসনের অন্দরে ভিন্ন মত প্রকাশ পাওয়ায় শুরু হয়েছে জল্পনা।
কী জানিয়েছেন চেয়ারপার্সন?
কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ মাসিক অধিবেশন পরিচালনার পূর্ণ ক্ষমতা চেয়ারপার্সনকে প্রদান করেছে। সেই রায়ের ভিত্তিতেই পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায় বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করে নিশ্চিত করেছেন যে, আগামী ১৯ জুন পুরনিগমের মাসিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। ১৯৮০ সালের পৌর আইনকে হাতিয়ার করেই তিনি জানিয়েছেন, এই অধিবেশন কোনোভাবেই আটকানো সম্ভব নয়।
প্রশাসনের অন্দরে ভিন্ন সুর:
যদিও চেয়ারপার্সনের এই ঘোষণাকে ঘিরে শুরু হয়েছে ধোঁয়াশা। কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, পুরো বিষয়টি এখনও বিচারাধীন। হাইকোর্টের কাছ থেকে এখনো কোনো অফিসিয়াল অর্ডার কপি তাঁদের হাতে এসে পৌঁছায়নি। ফলে প্রশাসনিক স্তরে অধিবেশন নিয়ে একপ্রকার অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
নতুন করে জল্পনা মেয়রের পদত্যাগ নিয়ে:
রাজনৈতিক মহলে সবথেকে বড় প্রশ্ন হিসেবে উঠে আসছে মেয়রের ভূমিকা। যদি কোনো কারণে মেয়র ফিরহাদ হাকিম নিজের পদ থেকে পদত্যাগ করেন, তবে কলকাতা পুরসভার বোর্ড ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সেক্ষেত্রে পরবর্তী পরিস্থিতি কী হবে এবং অধিবেশন কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় আইনি প্রশ্ন। যদিও চেয়ারপার্সনের দাবি, আইন অনুযায়ী বোর্ড থাকুক বা না থাকুক, মাসিক অধিবেশন ডাকার ক্ষমতা চেয়ারপার্সনের একার হাতেই থাকে।
পুরসভার ১৯৮০ সালের আইনকে কেন্দ্র করে গতবার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস যেভাবে সরব হয়েছিল, এবারও সেই আইনি টানাপোড়েনেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পুরসভার অন্দরমহল। ১৯ জুনের অধিবেশন শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে হয়, নাকি ফের কোনো আইনি ও রাজনৈতিক সংঘাতের সাক্ষী থাকে কলকাতা, এখন সেটাই দেখার।