‘আমি পলাতক নই!’ ১৭ বছর পর বিস্ফোরক ললিত মোদী, ভারতের বিচার ব্যবস্থা নিয়ে তুললেন বড় প্রশ্ন

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (IPL)-এর জনক ললিত মোদী আবারও শিরোনামে। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চলা আর্থিক অনিয়ম ও অর্থ পাচারের অভিযোগ এবং তাঁর ‘পলাতক’ তকমা—সবই দ্ব্যর্থহীন ভাষায় প্রত্যাখ্যান করলেন তিনি। সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ললিত মোদী দাবি করলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আজও কোনো ফৌজদারি অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি এবং বর্তমানে ভারতে ফেরার কোনো ইচ্ছাই তাঁর নেই।
‘আমি পলাতক নই, বরং পরিস্থিতির শিকার’
ললিত মোদীর দাবি, ভারত সরকারের মতো এক বিশ্ব পরাশক্তির হাত থেকে পালিয়ে বিশ্বভ্রমণ করা অসম্ভব। তিনি বলেন, “যদি আমি অপরাধী হতাম এবং সত্যিই পালিয়ে থাকতাম, তাহলে এতদিনে আমাকে ধরে ফেলতেন। আসলে আমি কোনো অপরাধেই দণ্ডিত নই। এই ‘পলাতক’ তকমাটি গণমাধ্যমের তৈরি করা একটি চাঞ্চল্যকর প্রচার মাত্র।”
বিচার ব্যবস্থার ধীরগতিতে ক্ষুব্ধ ললিত
ভারতের বিচার ব্যবস্থাকে কার্যত ‘শাস্তি’ হিসেবেই দেখছেন ললিত মোদী। তিনি বলেন, “ভারতে মামলার শুনানিই ঠিকমতো হয় না। বিচার প্রক্রিয়ায় এই দীর্ঘসূত্রতা এক প্রকার শাস্তি। ১৭ বছর কেটে গেল, কিন্তু আজ পর্যন্ত আমাকে কোনো আদালতে হাজির করা যায়নি। আমার বিরুদ্ধে একটিও মামলা প্রমাণ করা যায়নি, অথচ সবাই আমাকে ‘খারাপ’ বলে চিহ্নিত করেছে।”
‘আমার অগ্রাধিকার বদলে গেছে’
একসময় ভারতে ফেরার তীব্র ইচ্ছা থাকলেও, সময়ের সাথে সাথে তাঁর মানসিকতা বদলেছে বলে জানিয়েছেন ললিত। তিনি স্পষ্ট করেন, “নিজেকে সঠিক প্রমাণ করার তাগিদ এখন আমার আর নেই। একটা সময় ছিল যখন ফিরতে চেয়েছিলাম, কিন্তু এখন আমার কাছে সেই কারণগুলো অর্থহীন। আমি এখন কাউকেই কিছু প্রমাণ করতে চাই না।”
আইনি জটিলতা ও ইডি-র তদন্ত
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে দেশ ছাড়ার পর থেকে ললিত মোদীর বিরুদ্ধে নিলামে কারচুপি, অর্থ পাচার এবং ‘ফেমা’ (FEMA) আইন লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এখনো তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের তদন্ত চালাচ্ছে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রক তাঁকে প্রত্যর্পণের (Extradition) প্রক্রিয়া জারি রেখেছে। ললিতের পাল্টা দাবি, যদি সত্যি তাঁর বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকত, তবে এতদিনে তা প্রমাণিত হয়ে যেত।