তৃণমূলের দুর্গে ফাটল! বিদ্রোহীদের পাশে ১৭ মুসলিম বিধায়ক, অস্বস্তিতে মমতা

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহের আঁচ ক্রমশই তীব্র হচ্ছে। বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি অনুযায়ী, দলের প্রায় ৬০ জন বিধায়ক আলাদা গোষ্ঠী তৈরির পথে। তবে এই পুরো পরিস্থিতির মধ্যে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘১৭’ সংখ্যাটি।
সংখ্যালঘু বিধায়কদের বিদ্রোহ ও মমতা-দুর্গে কাঁপুনি
ঋতব্রতর এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে থাকা ৬০ জনের মধ্যে অন্তত ১৭ থেকে ১৮ জন বিধায়কই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। মুর্শিদাবাদ, মালদহ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো সংখ্যালঘু-প্রধান এলাকার এই বিধায়কদের বিদ্রোহ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য এক বড় রাজনৈতিক সতর্কবার্তা। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে যে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক ছিল মমতার জয়ের প্রধান হাতিয়ার, সেই দুর্গেই এখন ভাঙনের সুর স্পষ্ট। বিশেষ করে জাভেদ আহমেদ খানের মতো হেভিওয়েট নেতার বিদ্রোহী শিবিরে উপস্থিতি মমতা শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
কংগ্রেসের তৎপরতা ও অধীরের কটাক্ষ
তৃণমূলের এই টালমাটাল পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক জমি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেস সূত্রে খবর, বিদ্রোহীদের একাংশের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ও প্রদেশ নেতৃত্বের যোগাযোগ শুরু হয়েছে। যদিও এই পুরো বিষয়টিকে ‘বিজেপি-পৃষ্ঠপোষিত তৃণমূল’ বলে কটাক্ষ করেছেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। তাঁর কথায়, “এই পরিস্থিতিতে দলে থাকলে তাঁরা নিজের এলাকায় ফিরতে পারবেন না, তাই কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন।”
“মমতাই আমাদের নেত্রী”, দাবি আখরুজ্জামানের
অন্যদিকে, দল ভাঙার অভিযোগ সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছেন বিদ্রোহী শিবিরের বিধায়ক আখরুজ্জামান খান। তিনি বলেন, “আমরা তৃণমূলেরই অংশ এবং মমতাই আমাদের নেত্রী। কিন্তু পরিষদীয় দলের নিয়মকানুন না মানায় আমাদের হাসির পাত্র হতে হচ্ছিল। আমাদের কেবল দাবি, দলনেত্রী যেন এই পরিস্থিতিতে আমাদের দাবির পাশে দাঁড়িয়ে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আমাদের স্বীকৃতি দেন।”
ভবিষ্যৎ কোন দিকে?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিধায়ক হারানোর চেয়েও বড় বিপদ হলো এই বার্তা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কাছে পৌঁছানো। শুধু কংগ্রেস নয়, পর্দার আড়ালে আইএসএফ (ISF)-এর সঙ্গেও অনেক নেতার আলোচনা চলছে বলে জল্পনা তুঙ্গে। তৃণমূলের দীর্ঘদিনের এই সনাতনী সমর্থন কাঠামোয় ফাটল ধরলে, তা আগামিদিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।