সীমান্তে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত! লাদাখের দুর্গম চুমুর গ্রাম এবার ভারতের ‘মডেল ভিলেজ’

দেশের শেষ প্রান্তের প্রত্যন্ত জনপদ এবার উন্নয়নের জোয়ারে ভাসতে চলেছে। লাদাখের দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৬,৭০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত ছোট্ট গ্রাম—‘চুমুর’। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার (LAC) অতি নিকটে অবস্থিত মাত্র ৯১ জন বাসিন্দার এই গ্রামটিকে ভারতের প্রথম ‘মডেল বর্ডার ভিলেজ’ হিসেবে গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। বুধবার লাদাখের লেফটেন্যান্ট গভর্নর বিনয় কুমার সাক্সেনা এই ঐতিহাসিক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
কেন মডেল গ্রাম হিসেবে চুমুরকে বেছে নেওয়া হলো?
দীর্ঘদিন ধরে ভৌগোলিক প্রতিকূলতা ও পরিকাঠামোর অভাবে মূলধারার উন্নয়ন থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল এই এলাকা। বর্তমানে এখানে ২৪টি পরিবার বাস করে, যাদের আয়ের প্রধান উৎস পশমিনা ছাগল পালন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকার এই প্রান্তিক জনপদকে আত্মনির্ভর ও জলবায়ু-সহনশীল করে তোলা হবে।
প্রকল্পের মূল আকর্ষণ:
আধুনিক আবাসন: পাহাড়ি অঞ্চলের হাড়কাঁপানো শীত মোকাবিলায় তাপ নিরোধক দেওয়ালসহ ২৪টি আধুনিক ও জলবায়ু-সহনশীল বাড়ি তৈরি করা হবে।
পর্যটনে জোর: পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে প্রতিটি বাড়িতে একটি করে বিশেষ কক্ষ রাখা হবে, যা হোম-স্টে হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এটি গ্রামবাসীদের জন্য আয়ের নতুন পথ খুলে দেবে।
লক্ষ্যমাত্রা: চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে প্রশাসন।
জাতীয় সুরক্ষায় এই প্রকল্পের গুরুত্ব:
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ প্রোগ্রাম’-এর অধীনে এই উন্নয়ন প্রকল্প শুধু স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করবে না, বরং সীমান্ত এলাকায় জনবসতি বজায় রেখে জাতীয় নিরাপত্তাকেও আরও সুদৃঢ় করবে। সীমান্ত অঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেলে তা কৌশলগত দিক থেকেও ভারতকে অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে রাখবে।
লাদাখের মোট ১০টি সীমান্ত গ্রামকে এই প্রকল্পের প্রথম ধাপে উন্নয়নের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে চুমুরকে ‘মডেল’ হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে। উন্নয়নের আলো যে দেশের শেষ সীমানা পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব, চুমুরের এই যাত্রা তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে চলেছে।