তৃণমূলের অন্দরে বড় ধাক্কা! রাজনীতি থেকে অবসর ঘোষণার পথে প্রাক্তন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যে ভাঙন ও অস্থিরতা শুরু হয়েছে, তা যেন থামার নাম নিচ্ছে না। বিধানসভার বিরোধী দলনেতার আসনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বসার দিনেই এক চাঞ্চল্যকর ঘোষণা করলেন প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নিতে চলেছেন।

কী বললেন স্নেহাশিস?
বুধবার বিধানসভায় এসে প্রাক্তন এই মন্ত্রী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “মানুষের রায় আমি মাথা পেতে মেনে নিয়েছি। এখন থেকে আমি আর রাজনীতি করব না।” জাঙ্গিপাড়া কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রসেনজিৎ বাগের কাছে মাত্র ৮৬২ ভোটে পরাজয় তাঁকে মানসিকভাবে কিছুটা দূরে সরিয়ে দিয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

রাজনৈতিক কেরিয়ারের এক ঝলক:
বঙ্গ রাজনীতির পোড় খাওয়া নেতা হিসেবে পরিচিত স্নেহাশিস চক্রবর্তী ২০১১ সালে প্রথমবার জাঙ্গিপাড়া থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পর ২০২২ সালের আগস্ট মাসে তাঁকে রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রীর গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়। এবারের ভোটেও দলের ভরসা ছিল তাঁর ওপর, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত জয় আসেনি। নির্বাচনী ফলপ্রকাশের পর থেকেই তাঁকে দলের কর্মসূচিতে সেভাবে দেখা যাচ্ছিল না, এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্নামঞ্চেও তাঁর অনুপস্থিতি দলের অন্দরে গুঞ্জনের জন্ম দিয়েছিল।

তৃণমূলের বর্তমান টালমাটাল পরিস্থিতি:
তৃণমূলের জন্য সময়টা এখন অত্যন্ত কঠিন। একদিকে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিষেক, অন্যদিকে দলের সব শাখা সংগঠন বিলুপ্তির ঘোষণা—সব মিলিয়ে ঘাসফুল শিবির এখন কার্যত দিশেহারা। এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে স্নেহাশিস চক্রবর্তীর মতো একজন নেতার রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও দুর্বল করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে দলের একাংশ।

যদিও রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নিলেও রাজনৈতিক আলোচনা থেকে তিনি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হবেন না বলে জানিয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী। আপাতত তৃণমূলের এই সংকটময় মুহূর্তে তাঁর এই ঘোষণা নতুন কোনো সমীকরণের ইঙ্গিত দেয় কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।