বিশেষ: হিন্দু ধর্মে দেবী অন্নপূর্ণার মাহাত্ম্য কী? কীভাবে করবেন সঠিক নিয়ম মেনে পুজো?

সনাতন ধর্মে দেবী অন্নপূর্ণাকে অন্নের অধিষ্ঠাত্রী দেবী হিসেবে পূজা করা হয়। বিশ্বাস অনুযায়ী, মা অন্নপূর্ণা সন্তুষ্ট থাকলে সংসারে কখনোই অন্নের অভাব ঘটে না। দেবী পার্বতীরই এক রূপ হলেন অন্নপূর্ণা, যাঁকে অনেকে ‘অন্নদা’ বলেও ডেকে থাকেন। চৈত্র মাসের শুক্লাষ্টমী তিথিতে এই দেবীর আরাধনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
পৌরাণিক প্রেক্ষাপট ও বিশ্বাস: পুরাণ মতে, বিয়ের পর মহাদেব ও পার্বতীর সংসারে একবার অন্নকষ্ট দেখা দেয়। সেই পরিস্থিতিতে মহাদেব ভিক্ষায় বেরোলেও দেবীর মায়ায় কিছুই পাননি। অবশেষে কৈলাসে ফিরে এসে অন্নপূর্ণার হাতের প্রসাদেই তিনি তুষ্ট হন। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, সেই ঘটনার পরই কাশীতে অন্নপূর্ণা দেবীর মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়। তন্ত্রসার ও দক্ষিণামূর্তি সংহিতা গ্রন্থেও দেবীর পুজোর বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে।
কাশী ও বাংলার অন্নকূট: বারাণসীর বিশ্বনাথ মন্দিরের পাশেই অবস্থিত অন্নপূর্ণা মন্দিরটি অত্যন্ত পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত। ১৮ শতকে মারাঠা পেশোয়া প্রথম বাজিরাও এই মন্দিরটি নির্মাণ করেন। তবে বাংলার সাথেও এই পুজোর গভীর সংযোগ রয়েছে। কিংবদন্তি অনুযায়ী, নদীয়া রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা ভবানন্দ মজুমদার বাংলায় অন্নপূর্ণা পুজোর প্রচলন করেছিলেন। এ ছাড়া ব্যারাকপুরের অন্নপূর্ণা মন্দির এবং উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুর বা রামমোহন রায় রোডের বিভিন্ন মঠে অন্নকূট উৎসব মহাসমারোহে পালিত হয়।
পুজোর নিয়মাবলী ও পদ্ধতি: মা অন্নপূর্ণার কৃপা পেতে ভক্তরা বিশেষ কিছু নিয়ম মেনে চলেন:
-
প্রস্তুতি: পুজোর দিন সকালে শুদ্ধ বস্ত্র পরিধান করে দেবীর ধ্যানে বসতে হয়। অনেকে সারাদিন উপবাস বা ফলাহার পালন করেন।
-
স্থান নির্বাচন: পুজো সাধারণত রান্নাঘরে অথবা পবিত্র ঠাকুরঘরে করা হয়। জায়গাটি হলুদ-জল দিয়ে পরিষ্কার করে চালের গুঁড়ো দিয়ে আলপনা দেওয়া হয়।
-
পুজোর উপকরণ: একটি পাত্রে চাল রেখে তার ওপর দেবীর মূর্তি বা চিত্র স্থাপন করা হয়, যা অন্নের প্রাচুর্যকে নির্দেশ করে। দেবীকে শাড়ি, অলঙ্কার, ফুল ও ধূপ দিয়ে সাজিয়ে অন্ন, ক্ষীর, পায়েস ও মিষ্টি ভোগ নিবেদন করা হয়।
-
পাঠ: পুজো চলাকালীন ‘শ্রী অন্নপূর্ণা স্তোত্র’ বা ‘শ্রী অন্নপূর্ণা অষ্টকম’ পাঠ করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। শেষে আরতি করে পরিবারের সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করা হয়।