মমতাকে তীব্র আক্রমণ অধীরের: ‘ডিজে’ খেলায় বিজেপি বড় মাস্টারি দেখিয়ে দিল, রাজ্যে শুরু ‘শিণ্ডে মডেল’!

রাজ্যে বিধানসভার অন্দরে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কদের একাংশের বিদ্রোহ এবং বিরোধী দলনেতার আসন দখলের ঘটনা ঘিরে যখন রাজ্য রাজনীতি উত্তাল, তখন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীর মন্তব্যে তৈরি হলো নতুন মাত্রা। তৃণমূলের এই অস্থিরতাকে তিনি সরাসরি ‘একনাথ শিণ্ডে মডেল’-এর সঙ্গে তুলনা করলেন।

‘ডিজে’ খেলা ও মাস্টারি তৃণমূলের ৫৮ জন বিধায়কের অধ্যক্ষের কাছে চিঠি জমা দেওয়ার ঘটনাপ্রবাহকে কটাক্ষ করে অধীর চৌধুরী বলেন, “যে খেলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এতদিন মাস্টারি করেছেন, সেই খেলার ওপরেই আরও বড় মাস্টারি করে বিজেপি তাঁকে দেখিয়ে দিল যে, ‘ডিজে’ বাজানো শুধু তাঁর একার কাজ নয়, বিজেপিও তাতে কম যায় না।”

‘কোভিড’ তত্ত্ব ও দূরত্ব বজায় তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়কদের সরাসরি বিজেপিতে যোগদান নিয়ে নিজের দলের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে অধীর চৌধুরী এক অদ্ভুত ‘কোভিড’ তত্ত্ব টেনে আনেন। তিনি বলেন, “তৃণমূলের এই বিধায়করা যদি সরাসরি বিজেপিতে চলে যান, তবে গোটা বিজেপি দলই ‘কোভিডে’ আক্রান্ত হয়ে পড়বে। সেই ভাইরাস থেকে বাঁচতেই মোদীর ‘দো গজ কি দূরি’ বা দুই গজের দূরত্ব বজায় রাখার তত্ত্ব মেনে চলছে বিজেপি।”

অর্থাৎ, পরোক্ষভাবে অধীর ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তৃণমূলের অন্তর্কলহকে বিজেপি কৌশলগতভাবে ব্যবহার করছে ঠিকই, কিন্তু রাজনৈতিক ঝুঁকি এড়াতে তারা সরাসরি বিধায়কদের দলে না মিশিয়ে এক ধরনের দূরত্বের রাজনীতি বজায় রাখছে।

তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা উল্লেখ্য, আজ বুধবার বিধানসভায় তৃণমূলের একাংশ বিধায়ক দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করে স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের অন্দরে এই বিদ্রোহ কার্যত সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে। বিরোধী কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীর এই বিশ্লেষণ শাসকদলের অস্বস্তি যে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।