তৃণমূলে বড় ভাঙন! বিরোধী দলনেতা হয়েই অভিষেককে নিশানা ঋতব্রতর, মমতাকেই চাইছেন ‘পরামর্শদাতা’

রাজ্য রাজনীতিতে নজিরবিহীন অস্থিরতার মাঝে নতুন মোড়। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করার পর, বুধবার বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা (Leader of Opposition) হিসেবে নির্বাচিত করলেন বিদ্রোহী বিধায়কদের একটি অংশ। এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূলের জন্য এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
৫৮ বিধায়কের সমর্থন, নতুন টিম গঠন বিধানসভায় তৃণমূলের মোট ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি অনুযায়ী, ৫৮ জন বিধায়ক তাঁকে এই পদের জন্য সমর্থন করেছেন। এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে ঋতব্রত জানান, তাঁদের এই বিধায়ক দলের সংখ্যা অদূর ভবিষ্যতে ৬০-এ পৌঁছাতে পারে। তিনি তাঁদের টিমের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্তদের নামও ঘোষণা করেছেন:
-
ডেপুটি লিডার: সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান, সাবিনা ইয়াসমিন এবং শিউলি শাহা।
-
মুখ্য সচেতক (Chief Whip): আখরুজ্জামান।
অভিষেককে তোপ, মমতাকেই ভরসা এদিনের বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি আক্রমণ করেন ঋতব্রত। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “অষ্টাদশ বিধানসভার সঙ্গে অভিষেকের কোনো সম্পর্ক নেই। জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলে তিনি লুকিয়ে থাকতেন না।” অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা ও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি।
তবে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি সুর নরম রেখে ঋতব্রত বলেন, “আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের প্রধান পরামর্শদাতা হিসেবে থাকার অনুরোধ করব। তিনি সঙ্গে থাকলে আমরা আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারব।”
‘গঠনমূলক বিরোধিতা’র প্রতিশ্রুতি বিরোধী দলনেতা হিসেবে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে ঋতব্রত জানান, তাঁরা কোনো ‘অন্ধ বিরোধিতা’য় বিশ্বাসী নন। রাজ্য সরকারের কোনো পদক্ষেপ ভালো হলে তাঁরা তাকে স্বাগত জানাবেন, যেমন ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প। তবে জনস্বার্থবিরোধী কোনো নীতির ক্ষেত্রে তাঁরা কড়া ও গঠনমূলক বিরোধিতা করবেন।
এদিকে, মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান জানান, দলীয় স্তরে অরাজকতা ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদেই তাঁরা এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন। রাজ্য রাজনীতিতে এই নতুন মেরুকরণ তৃণমূলের অন্দরে কত গভীর ক্ষত সৃষ্টি করল, এখন সেটাই দেখার।