‘আমরা ৫৮ জনের টিম, কেউ নেতা-কেউ ভৃত্য নয়’: বিধানসভায় বড় ঘোষণা ঋতব্রতর!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অন্দরে তৈরি হলো নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার তিনি ঘোষণা করেন, আপাতত ৫৮ জন বিধায়ককে নিয়ে একটি শক্তিশালী ‘টিম’ হিসেবে কাজ করবে তাঁদের এই শিবির।

কী বললেন ঋতব্রত? সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত স্পষ্ট ভাষায় জানান, ‘‘এখানে কেউ নেতা আর কেউ ভৃত্য নয়। আপাতত আমরা ৫৮ জন বিধায়ক একজোট হয়েছি। আমাদের লক্ষ্য একটাই। আরও দুজন বিধায়ক রাজ্যের বাইরে রয়েছেন, তাঁদেরও সম্মতি আছে। সব মিলিয়ে খুব শীঘ্রই আমাদের সংখ্যাটা ৬০-এ পৌঁছাবে।’’

তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ও মমতা-বন্দনা: তৃণমূলের প্রতীকে জয়ী বিধায়কদের নিয়ে এই নতুন দল গঠন করলেও, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পর্ক নেই বলে সাফ জানিয়েছেন ঋতব্রত। তবে এই পরিস্থিতিতেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই তাঁদের ‘পরামর্শদাতা’ বা মেন্টর হিসেবে দেখার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

বিধানসভার গাণিতিক সমীকরণ: ২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলের মর্যাদা পেতে অন্তত ১০ শতাংশ বা ৩০টি আসনের প্রয়োজন হয়। বিধায়ক সংখ্যা এবং বিধানসভার বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, বিরোধী দলনেতা হতে ঋতব্রতের প্রয়োজন ছিল অন্তত ৪১ জন বিধায়কের সমর্থন।

এদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন জানিয়ে স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে ৫৯ জন বিধায়কের স্বাক্ষর সম্বলিত চিঠি জমা দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় ৫৭ জন তৃণমূল বিধায়ক ছাড়াও রয়েছেন ঋতব্রত নিজে এবং সন্দীপন সাহা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে আরও প্রকট করে তুলল।