তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল কাউন্সিলর অরিজিৎ দাস ঠাকুর, অস্বস্তিতে শাসকদল

রাজ্যে তোলাবাজির বিরুদ্ধে পুলিশের ধরপাকড় অব্যাহত। গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তৃতীয়বারের মতো তৃণমূল কংগ্রেসের কোনো নেতার গ্রেফতারিতে শোরগোল পড়ে গেল রাজনৈতিক মহলে। এবার গ্রেফতার হলেন কলকাতা পুরনিগমের ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অরিজিৎ দাস ঠাকুর। বুধবার তাঁকে আদালতে তোলা হবে।

গ্রেফতারির নেপথ্যে কী?
গড়ফা থানার পুলিশ সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত বেআইনিভাবে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠছিল অরিজিতের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন অজুহাতে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা লিখিত অভিযোগ জানানোর পর তদন্তে নামে পুলিশ। অভিযোগের সত্যতা মিলতেই তড়িঘড়ি গ্রেফতার করা হয় তাঁকে।

রাজনৈতিক অস্বস্তিতে তৃণমূল
গ্রেফতার হওয়া অরিজিৎ দাস ঠাকুর শুধুমাত্র পুরনিগমের কাউন্সিলর নন, তিনি তৃণমূলের আইটি সেলেরও একজন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা। তাঁকে দলের অন্যতম ‘তরুণ মুখ’ হিসেবে তুলে ধরার পরিকল্পনা ছিল নেতৃত্বের। এছাড়া অরিজিৎ প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা দুলাল দাস ঠাকুরের পুত্র হওয়ায়, এই গ্রেফতারি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত তৃণমূলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

প্রশাসনের কড়া বার্তা?
সম্প্রতি সুদীপ পোল্লে এবং সচিন সিং-এর মতো নেতাদের গ্রেফতারির পর অরিজিতের নাম এই তালিকায় যুক্ত হওয়াকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধীদের দীর্ঘদিনের তোলাবাজির অভিযোগকে প্রশাসন এখন বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং কোনো প্রভাবশালীকেই যে ছাড় দেওয়া হবে না, তা এই ধরপাকড় থেকেই স্পষ্ট।

পরবর্তী পদক্ষেপ
তদন্তকারীরা ধৃত কাউন্সিলরকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানাবেন বলে খবর। অরিজিতের নেপথ্যে কোনো বৃহত্তর চক্র কাজ করছিল কি না এবং এই তোলাবাজির টাকা কোথায় কোথায় পৌঁছাত— সেই রহস্য উদ্ঘাটন করাই এখন পুলিশের প্রধান চ্যালেঞ্জ।