তৃণমূলে কি বড় ভাঙন? ৬০ বিধায়কের সই নিয়ে বিধানসভায় ঋতব্রত, তুঙ্গে জল্পনা

রাজনৈতিক মহলে জল্পনার পারদ চড়িয়ে আজ বিধানসভায় ঘটল বড় ঘটনা। ৬০ জন বিধায়কের সই সম্বলিত চিঠি নিয়ে বিধানসভায় পৌঁছালেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কি তবে বড়সড় ভাঙনের মুখে?
বিধানসভায় বিধায়কদের সারি:
বুধবার বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে দেখা যায় বিধায়কদের লম্বা তালিকা। এই তালিকায় রয়েছেন অরূপ রায়, তাপস মাইতি, শিউলি সাহা, ইমানি বিশ্বাস, আক্রুজ্জামান, দিনেন রায়, সাবিনা ইয়াসমিন, সমীর জানা এবং লালগোলার বিধায়ক আব্দুল আজিজ-সহ আরও অনেকে। হাওড়া ও অন্যান্য জেলার একাধিক বিধায়কের উপস্থিতি ঘিরে জল্পনা আরও ঘনীভূত হয়েছে।
কী বলছেন বিধায়করা?
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অধিকাংশ বিধায়কই দাবি করেছেন, তাঁরা ব্যক্তিগত বা দাপ্তরিক কাজে বিধানসভায় এসেছেন। তবে ‘বিরোধী দলনেতা’ কে হবেন—এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়েই অস্বস্তিতে পড়তে দেখা যায় অনেককে। যদিও নেত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম স্বীকার করছেন তাঁরা, কিন্তু বিরোধী দলনেতার নাম নিয়ে দলের অন্দরেই যে এক ধরণের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, তা তাঁদের প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট।
স্পিকারের কাছে চিঠি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া:
সূত্রের খবর, বিধায়কদের সই করা একটি গুরুত্বপূর্ণ চিঠি স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, এই পরিস্থিতিতে স্পিকার সই করা বিধায়কদের ব্যক্তিগতভাবে তলব করতে পারেন। সেই কারণেই সম্ভবত ৬০ জন বিধায়ক আজ একে একে বিধানসভায় প্রবেশ করছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি এই বিধায়করা সত্যিই তৃণমূলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন বা নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি করেন, তবে তা বাংলার রাজনীতিতে বড় ধাক্কা হতে পারে। এখন নজর স্পিকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।