“মাথায় ডিম্ ছোড়ার ভয়”!”-বর্ধমানের দাপুটে নেতা খোকন দাসকে আদালতে হাজির করল পুলিশ।

মঙ্গলবার বর্ধমান চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে এক অন্যরকম দৃশ্যের সাক্ষী থাকল শহরবাসী। পুলিশি প্রহরায় আদালতে হাজিরা দিলেন বর্ধমান দক্ষিণের একসময়ের দাপুটে তৃণমূল নেতা খোকন দাস। তবে তাঁর মাথা ছিল পুলিশের দেওয়া একটি হেলমেটে ঢাকা। সম্প্রতি রাজ্যজুড়ে শাসকদলের নেতাদের লক্ষ্য করে যেভাবে ইট ও ডিম ছোড়ার ঘটনা ঘটছে, তার জেরেই কি এই বাড়তি সতর্কতা? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।
গ্রেফতারি ও মামলার প্রেক্ষাপট ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে বিজেপি কর্মীদের ওপর মারধর, বাড়ি ভাঙচুর, তোলাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছিল খোকন দাসের বিরুদ্ধে। দুই দিন আগে উত্তরপ্রদেশের দীনদয়াল উপাধ্যায় স্টেশন থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সোমবার বিকেলে তাঁকে বর্ধমান থানায় নিয়ে আসা হয় এবং মঙ্গলবার তোলা হয় আদালতে। যদিও খোকন দাসের দাবি, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশেই তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
হাসি মুখে হেলমেট-যাত্রী খোকন থানা থেকে আদালতে যাওয়ার সময় খোকন দাসের হাবভাব ছিল বেশ স্বাভাবিক। গাড়িতে বসে তাঁকে জলখাবারের প্যাকেট হাতে হাসিমুখে দেখা যায়। কিন্তু আদালতের সামনে গাড়ি পৌঁছাতেই সুরক্ষাবলয় তৈরি হয়। এক পুলিশ আধিকারিক খোকনের মাথায় হেলমেট পরিয়ে দেন। হেলমেটের আড়ালে মুখ ঢেকেই আদালতের অন্দরে প্রবেশ করেন প্রাক্তন এই বিধায়ক।
জনরোষের ভয়? গত কয়েক দিনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল নেতাদের লক্ষ্য করে যেভাবে জনরোষ আছড়ে পড়ছে, তাতে কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না প্রশাসন। খোকন দাস একসময় বর্ধমান জেলায় তৃণমূলের অন্যতম শক্তিশালী নেতা ছিলেন, যাঁর বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। পালাবদলের পর থেকেই বর্ধমানের সাধারণ মানুষের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে প্রবল ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে। সেই ক্ষোভ থেকে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতেই পুলিশ এই বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনীতির কারবারিদের মতে, যে নেতার নামে একসময় ভয়ে তটস্থ থাকত এলাকা, আজ সেই নেতার মাথাতেই পুলিশের দেওয়া হেলমেট—এ যেন বাংলার বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণেরই এক জ্বলন্ত ছবি।