‘রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে ছিবড়ে করা হয়েছে!’ তাপস পালের মৃত্যু নিয়ে বিস্ফোরক স্ত্রী নন্দিনী

২০২০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা তথা রাজনীতিক তাপস পাল। তাঁর প্রয়াণের সাড়ে ছয় বছর পর, তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের একটি মন্তব্যের সূত্র ধরে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তাপস পত্নী নন্দিনী মুখোপাধ্যায়। সামাজিক মাধ্যমে এক খোলা চিঠিতে তিনি স্বামী তাপস পালের রাজনৈতিক পরিণতি ও দলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
কী বললেন নন্দিনী?
সম্প্রতি কুণাল ঘোষকে এক টেলিভিশন চ্যানেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ‘বিবেকের’ কথা বলতে শুনে চটেছেন নন্দিনী। কুণাল ঘোষকে উদ্দেশ্য করে তাঁর সরাসরি প্রশ্ন, “যখন তাপস পাল নামক একজন মানুষকে রাজনৈতিক প্রয়োজনে ব্যবহার করে কার্যত ছিবড়ে করে ফেলা হয়েছিল এবং মানসিক যন্ত্রণার মাধ্যমে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল, তখন সেই বিবেকের পাঠ কোথায় ছিল?”
রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার ও যন্ত্রণা
রোজভ্যালি কাণ্ডে সিবিআই গ্রেপ্তার করেছিল তাপস পালকে। সেই সময় ১৩ মাস তাঁকে কারাবাস করতে হয়। নন্দিনী মুখোপাধ্যায়ের দাবি, রাজনৈতিক জীবনে এই দীর্ঘ চড়াই-উতরাই ও মানসিক অস্থিরতার পেছনে তৃণমূল কংগ্রেসের বড় ভূমিকা ছিল। তাঁর মতে, অভিনয়ের জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র তাপস পালকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে পরবর্তীতে একপ্রকার ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
কুণাল ঘোষের ‘বদলে যাওয়া’ নিয়ে প্রশ্ন
নন্দিনী শুধু তাপস পালের প্রসঙ্গেই থেমে থাকেননি, তিনি কুণাল ঘোষের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও তোপ দেগেছেন। তিনি লিখেছেন, “আপনি একসময় জেলে যাওয়ার পর নেত্রীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অনেক অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু আজ আপনাদের মধ্যে যে রাজনৈতিক রসায়ন দেখা যাচ্ছে, তার কারণ কী? এটা কি মতাদর্শের পরিবর্তন, নাকি পরিস্থিতির চাপে আপস? সাধারণ মানুষ এই পরিবর্তনের ব্যাখ্যা জানতে চায়।”
রাজনীতিতে চরম বঞ্চনার অভিযোগ
দুইবারের বিধায়ক এবং দুইবারের সাংসদ তাপস পাল রাজনৈতিক জীবনে যে সম্মান পাওয়ার দাবি রাখতেন, তা তিনি পাননি বলেই মনে করেন তাঁর স্ত্রী। বরং দলের অন্দরে একলা হয়ে পড়া এবং রোজভ্যালি কাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ফলে যে অবমাননা ও মানসিক যন্ত্রণা তাঁকে সহ্য করতে হয়েছিল, তা-ই অকাল প্রয়াণের কারণ বলে নন্দিনী মনে করছেন।
পর্দার ‘দাদার কীর্তি’খ্যাত তারকার জীবনাবসানের এত বছর পরও স্ত্রীর এই ক্ষোভ ও খোলা চিঠি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে এই মন্তব্যের কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।