“পেটে লাথি মারবেন না!” বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া উচ্ছেদের প্রতিবাদে রণক্ষেত্র স্টেশন চত্বর

ফের রেল স্টেশনে হকার উচ্ছেদ ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙা স্টেশন। মঙ্গলবার সকালে রেলের উচ্ছেদকারী দল বুলডোজার নিয়ে দোকান ভাঙতে গেলে ব্যবসায়ী ও হকারদের তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়েন আধিকারিকরা।
রেললাইনে মাথা রেখে প্রতিবাদ:
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে গোবরডাঙা স্টেশনের তিনটি প্ল্যাটফর্মের আশেপাশে গড়ে ওঠা ছোট ছোট দোকানগুলো ভাঙার নির্দেশ আসতেই হকারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রুটিরুজি বাঁচাতে শেষ পর্যন্ত চরম পথ বেছে নেন আন্দোলনকারীরা। বেশ কয়েকজন মহিলা ও প্রবীণ ব্যবসায়ী কোনো উপায়ান্তর না দেখে সটান রেললাইনে শুয়ে পড়েন। তাঁদের সাফ দাবি, “কোনো অবস্থাতেই দোকান ভাঙা যাবে না।” ব্যবসায়ীদের কথায়, এই দোকানগুলোই তাঁদের সংসার চালানোর একমাত্র অবলম্বন। রেল কর্তৃপক্ষ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই হঠাৎ এই পদক্ষেপ নেওয়ায় তাঁরা ক্ষুব্ধ।
দমদমের পুনরাবৃত্তি:
সম্প্রতি দমদম জংশন স্টেশনেও একই রকম পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। সেখানেও উচ্ছেদের প্রতিবাদে এক মহিলা ব্যবসায়ী রেললাইনে শুয়ে পড়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। যদিও তাতে রেল কর্তৃপক্ষ দমে যায়নি। বিশাল পুলিশ ও আরপিএফ (RPF) বাহিনীর সহায়তায় দমদমের বহু দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। গোবরডাঙার ক্ষেত্রেও প্রশাসন একইভাবে কঠোর মনোভাব বজায় রেখেছে।
রাজনৈতিক উত্তাপ:
এই উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে বাংলার রাজনৈতিক পারদও চড়তে শুরু করেছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ইস্যুতে বর্তমান সরকারের কাছে কিছুটা ‘মানবিক’ হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। অন্যদিকে, পুনর্বাসন বা বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে উচ্ছেদের তীব্র বিরোধিতায় সরব হয়েছে বাম নেতৃত্ব। স্টেশনে স্টেশনে হকারদের নিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন তাঁরা।
রেল কর্তৃপক্ষের এই উচ্ছেদ অভিযান একদিকে যেমন স্টেশনের সৌন্দর্যায়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্য নিয়ে চলছে, অন্যদিকে হকারদের জীবন-জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা এক বড় সংকটের জন্ম দিয়েছে। পুলিশ ও আরপিএফ মোতায়েন থাকলেও স্টেশনের পরিস্থিতি এখনও বেশ থমথমে।