অসহ্য গরমে পুড়ছে ভারত! ৫ দিনের তাপপ্রবাহেই ৩০ হাজার মৃত্যুর আশঙ্কা, কী বলছে রিপোর্ট?

তাপমাত্রা ছুঁয়েছে ৪৭ ডিগ্রি! উত্তর ভারত থেকে মধ্য ভারত— দাবদাহে যেন আগ্নেয়গিরি হয়ে উঠেছে প্রতিটি শহর। কিন্তু এই চরম গরম যে শুধুমাত্র অস্বস্তির কারণ নয়, বরং এক ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য সংকট, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন গবেষকরা। সাম্প্রতিক এক গবেষণার তথ্য বলছে, তাপপ্রবাহের কবলে পড়ে ভারতে একদিনেই ৩,৪০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

গবেষণায় উঠে এল ভয়াবহ পরিসংখ্যান
ইন্ডিয়া টুডে-র রিপোর্টে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১০টি শহরের ওপর ভিত্তি করে এই গবেষণা চালানো হয়েছে। ফলাফলে দেখা গিয়েছে, যদি টানা পাঁচ দিন ধরে তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকে, তবে মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছাতে পারে প্রায় ৩০ হাজারের কাছাকাছি। গবেষকদের দাবি, সরকারি খাতায় অনেক সময় প্রকৃত মৃত্যুর হিসাব ধরা পড়ে না, তাই বাস্তবে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে।

কেন বাড়ছে ঝুঁকি?
২০২৪ সালের পর ২০২৬ সালে এসে ভারতের তাপমাত্রা আরও লাগামছাড়া। রাজস্থান, দিল্লি-এনসিআর, উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলোতে তাপমাত্রার পারদ ৪৫ থেকে ৫০ ডিগ্রির গণ্ডি ছাড়িয়েছে। গবেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে দুটি বড় সমস্যা মাথাচাড়া দিচ্ছে:

রাতের স্বস্তিও উধাও: শহরাঞ্চলে কংক্রিটের জঙ্গল এমনভাবে তৈরি হয়েছে যে, সূর্যাস্তের পরেও তাপমাত্রা কমছে না। ফলে শরীর বিশ্রাম পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না।

প্রান্তিক মানুষের বিপদ: তীব্র দাবদাহের সবচেয়ে বড় শিকার কৃষক, দিনমজুর এবং প্রবীণ নাগরিকরা। দীর্ঘসময় খোলা আকাশের নিচে বা কর্মক্ষেত্রে থাকার ফলে তাঁদের হিটস্ট্রোক ও হিট-এগজশনের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে।

রাজ্যভিত্তিক বিপদের সংকেত
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, শুধু উত্তরপ্রদেশেই পাঁচ দিনের তাপপ্রবাহে ৮ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। আহমেদাবাদ, জয়পুর ও সুরাটের মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোতে একদিনের তীব্র তাপপ্রবাহেই আড়াইশোর বেশি মানুষের প্রাণহানির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল ও কম জিডিপি-সম্পন্ন রাজ্যগুলো এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে সবচেয়ে বেশি অরক্ষিত।

জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন সতর্কতা
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, পৃথিবীর তাপমাত্রা যেভাবে বাড়ছে, তাতে ভবিষ্যতে এই তাপপ্রবাহের স্থায়িত্ব ও তীব্রতা আরও বাড়বে। একে এখন আর ‘স্বাভাবিক গ্রীষ্মের গরম’ বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। দ্রুত কার্যকরী সরকারি পদক্ষেপ এবং জনসচেতনতা ছাড়া এই জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলা করা প্রায় অসম্ভব।

অসহ্য গরমে নিজেকে সুস্থ রাখতে প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন, সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলুন এবং প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের প্রতি বিশেষ নজর রাখুন।