‘রাস্তাই রাস্তা দেখাবে’! ছাব্বিশের ধাক্কা সামলে ফের পথে নামছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পর এই প্রথম প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নামছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের সেই চিরচেনা রাজনৈতিক রণক্ষেত্র অর্থাৎ ‘পথ’কেই ফের প্রতিবাদের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি। পূর্বপরিকল্পিত অবস্থান বিক্ষোভ বাতিল করে রানি রাসমনি অ্যাভিনিউতে পদযাত্রার মধ্য দিয়ে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে নতুন লড়াইয়ের ডাক দিচ্ছেন নেত্রী।

বদলে গেল কর্মসূচির রূপরেখা তৃণমূল সূত্রে খবর, শুরুতে ২ জুন রানি রাসমনি অ্যাভিনিউতে ধরনা বা অবস্থান বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে পুলিশের অনুমতি পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় কৌশলী বদল এনে নেত্রী এবার সরাসরি পদযাত্রার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট বার্তা, “রাস্তাই রাস্তা দেখাবে।” তিনি জানিয়েছেন, পুলিশ অনুমতি না দিলেও তিনি আদালতের দ্বারস্থ হবেন না, বরং একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে রাজপথে নেমে নিজের প্রতিবাদ নথিভুক্ত করবেন।

কেন হঠাৎ এই ‘স্ট্রিট ফাইট’? গত কয়েক দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৃণমূলের জন্য বেশ প্রতিকূল হয়ে উঠেছে। শনিবার সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রবিবার চণ্ডীপুরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনা দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এই জোড়া ধাক্কায় বিপর্যস্ত কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে এবং আত্মবিশ্বাস ফেরাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পদযাত্রা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

প্রতিবাদের মূল ইস্যুসমূহ মঙ্গলবারের এই কর্মসূচি থেকে বিজেপি সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে ঘাসফুল শিবির যে বিষয়গুলোকে সামনে রাখতে চাইছে, তা হলো:

  • ভোট-পরবর্তী হিংসার ক্রমবর্ধমান অভিযোগ।

  • নির্বাচনে কারচুপির দাবি।

  • রাজ্যজুড়ে তৃণমূল কর্মীদের ওপর লাগাতার হামলার প্রতিবাদ।

  • কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ।

এখন রাজনৈতিক মহলের নজর, মমতার এই পদযাত্রা কতটা জনসমর্থন টানতে পারে এবং বিরোধী শিবিরের চাপে থাকা তৃণমূলের ভাঙা মনোবল ফেরাতে কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করে।