জাপানে নিষিদ্ধ ভারতের আম! জীবাণুমুক্তকরণ পদ্ধতিতে ত্রুটির অভিযোগে বড় ধাক্কা রফতানিতে

ভারতের আম রফতানিতে বড়সড় ধাক্কা। ভেপার হিট ট্রিটমেন্ট (Vapor Heat Treatment) পদ্ধতিতে ত্রুটি থাকার অভিযোগে ভারতের আম আমদানির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করল জাপান। দুই দশক আগে ফলের মাছি সংক্রান্ত সমস্যার কারণে একবার নিষেধাজ্ঞা এসেছিল, ২০০৬ সালের পর থেকে যা আবার স্বাভাবিক হয়েছিল। ফের এমন ঘটনায় মাথায় হাত মালদা সহ দেশের আমচাষিদের।

কেন এই নিষেধাজ্ঞা? সম্প্রতি জাপানের একটি প্রতিনিধিদল উত্তরপ্রদেশের রেহমানপুরে আমের কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করে। সেখানেই আমের জীবাণুমুক্তকরণ (Fumigation) বা ভেপার হিট ট্রিটমেন্ট পদ্ধতিতে বেশ কিছু ত্রুটি খুঁজে পান তাঁরা। জাপানের ইয়াকোহামা প্ল্যান্ট প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশনের মতে, বর্তমান পদ্ধতিতে আমের জীবাণুমুক্তকরণ পুরোপুরি নিশ্চিত নয়, যা জাপানের পরিবেশ ও কৃষির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

কতটা ক্ষতি হতে পারে? মালদা ম্যাঙ্গো অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি উজ্জ্বল সাহা জানান, জাপান ভারতের সবচেয়ে বড় বাজার না হলেও, সেখানে আমের দাম তুলনামূলক অনেক বেশি—প্রতি কেজিতে প্রায় ৩৫০ টাকা। প্রতি বছর প্রায় ৫০ থেকে ৬০ মেট্রিক টন আম জাপানে রফতানি করা হতো। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে বড় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন চাষিরা। তবে, রফতানি সংগঠনের দাবি, এটি পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং প্রযুক্তিগত ত্রুটিগুলো সংশোধন করার জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা।

চাষিদের হাহাকার ও দাবি মালদার আমচাষি উত্তম চৌধুরী ও বিমান মণ্ডলের মতে, এই পরিস্থিতি অন্য দেশেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁরা জানান:

  • রফতানির জন্য মালদাতেও উন্নত ‘ভেপার হিট ট্রিটমেন্ট’ পরিকাঠামো প্রয়োজন।

  • বর্তমানে আম জীবাণুমুক্ত করার জন্য মুম্বাই বা অন্য রাজ্যে পাঠাতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল।

  • আধুনিক ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যবহার করেও রফতানি প্রক্রিয়ায় এহেন বাধা চাষিদের মনোবল ভেঙে দিচ্ছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ ভারত সরকার এবং অ্যাপেডা (APEDA) ইতিমধ্যেই নড়েচড়ে বসেছে। জাপান সরকারের শর্তগুলো পূরণের লক্ষ্যে কোয়ারেন্টিন বিভাগ যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে। আশা করা হচ্ছে, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সংশোধনীর মাধ্যমে দ্রুত জাপানের বাজারে আবারও জায়গা করে নেবে ভারতীয় আম।