বাড়িতে নিজের ইচ্ছায় যৌনবৃত্তি কি অপরাধ? আইটিপিএ আইন নিয়ে বড় রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট!

সাত দশক আগে প্রণীত ‘অনৈতিক কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন, ১৯৫৬’ (ITPA) সংক্রান্ত এক ঐতিহাসিক রায়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট করে দিল, এই আইনের মূল লক্ষ্য পতিতাবৃত্তি নির্মূল করা নয়, বরং এর আড়ালে থাকা শোষণ ও পাচার চক্রকে ধ্বংস করা। বিচারপতি জে.বি. পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি আর. মহাদেবনের বেঞ্চ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যারা এই পেশাকে ব্যবসার মতো শোষণ করছে, আইন মূলত তাদের বিরুদ্ধে।

আদালতের রায়ের মূল বিষয়বস্তু:
পতিতালয় থেকে উদ্ধারকৃত নারীদের পুনর্বাসন সংক্রান্ত এক মামলার শুনানিতে এই রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছে:

আইনের আসল উদ্দেশ্য: আইনটি নারীদের শাস্তি দেওয়ার জন্য নয়, বরং দালাল, পাচারকারী এবং শোষকদের দমনের জন্য তৈরি করা হয়েছিল।

পতিতালয়ের নতুন সংজ্ঞা: যদি কোনো নারী কোনো দালাল, মধ্যস্থতাকারী বা অন্য কারো সাহায্য ছাড়াই নিজের বাড়িতে জীবিকা নির্বাহের জন্য যৌনবৃত্তিতে লিপ্ত হন, তবে সেই ঘরটিকে আইনের চোখে ‘পতিতালয়’ বলা যাবে না। অর্থাৎ, শুধুমাত্র নিজের বাড়িতে জীবিকার তাগিদে এই কাজ করলে সেটি অপরাধের আওতায় পড়বে না।

জনপরিসরে বিধিনিষেধ:
আদালত স্পষ্ট করেছে, ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে ছাড় থাকলেও কিছু জায়গায় কঠোরতা বজায় রাখতে হবে। আইটিপিএ-এর ৭ ও ৮ ধারা অনুযায়ী:
১. কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা জনবহুল এলাকার কাছাকাছি পতিতাবৃত্তি নিষিদ্ধ।
২. জনসমাগমস্থলে খদ্দের খোঁজা বা জোগাড় করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
আদালতের মতে, এই বিধিনিষেধগুলো রাখা হয়েছে সামাজিক শৃঙ্খলা, শালীনতা এবং সাধারণ মানুষের সুবিধা বজায় রাখার জন্য।

কেন এই রায় গুরুত্বপূর্ণ?
২৯৮ পৃষ্ঠার দীর্ঘ রায়ে বিচারপতি পারদিওয়ালা উল্লেখ করেছেন যে, বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে নারী পাচারের মতো সামাজিক ব্যাধি দূর করতেই এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। আইনটির শিরোনামে ‘অনৈতিক’ শব্দটি যুক্ত থাকলেও, তা আসলে সেই বাণিজ্যিক শোষণকেই নির্দেশ করে যা সমাজ ও নারীর মর্যাদার জন্য হুমকিস্বরূপ।

আদালতের এই পর্যবেক্ষণ যৌনকর্মীদের মর্যাদা এবং আইনি অধিকারের প্রশ্নে এক নতুন দিক উন্মোচন করল। আইনটিকে খণ্ডিত বা সংকীর্ণ দৃষ্টিতে না দেখে তার প্রকৃত মানবিক ও সামাজিক উদ্দেশ্যকে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশই দিয়েছে শীর্ষ আদালত।