নিলামে অবিক্রিত, এরপরই কিস্তিমাত! কীভাবে আরসিবি-কে চ্যাম্পিয়ন বানালেন রজত পাটিদার?

আইপিএল ইতিহাসে অনেক খেলোয়াড় এসেছেন, কিন্তু খুব কম খেলোয়াড়ই রজত পাটিদারের মতো এমন নাটকীয়ভাবে দলের ভাগ্য বদলে দিতে পেরেছেন। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু (আরসিবি)-র অধিনায়ক হিসেবে পাটিদার আজ বেঙ্গালুরুর ঘরের ছেলে এবং আইপিএল-এর অন্যতম বড় সুপারস্টার।
বিয়ের পিঁড়ি ছেড়ে বাইশ গজে
রজত পাটিদারের এই উত্থান কোনো সিনেমার গল্পের চেয়ে কম নয়। ২০২১ সালে আরসিবি-তে যাত্রা শুরু করলেও ২০২২ সালে নিলামে কোনো দল তাঁকে নেয়নি। সেই সময় তিনি হতাশ হয়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। ২০২২ সালের ৯ই মে বিয়ের তারিখও চূড়ান্ত ছিল। কিন্তু ভাগ্য অন্য কিছু লিখে রেখেছিল। বিয়ের কয়েকদিন আগে আরসিবি শিবির থেকে ডাক পান তিনি। জীবনের সবথেকে বড় সিদ্ধান্তের মুখে দাঁড়িয়ে ব্যক্তিগত সুখের চেয়ে ক্রিকেটকে বেছে নেন রজত; স্থগিত করেন বিয়ে।
সেই সেঞ্চুরি যা বদলে দিল সবকিছু
আরসিবি-তে যোগ দেওয়ার পরেই রজত পাটিদার জ্বলে ওঠেন। ২০২২ সালের এলিমিনেটর নকআউট ম্যাচে তাঁর বিধ্বংসী সেঞ্চুরি ছিল ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। এরপর ২০২৩ সালে চোটের কারণে পুরো মৌসুম মাঠের বাইরে থাকলেও, ২০২৪ সালে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ১৭৭ স্ট্রাইক রেটে ৩৯৫ রান করে তিনি প্রমাণ করেন কেন তিনি দলের মেরুদণ্ড।
অধিনায়ক হিসেবে ইতিহাস
২০২৫ সালে আরসিবি কর্তৃপক্ষ রজতের ওপর আস্থা রেখে তাঁকে অধিনায়ক হিসেবে ঘোষণা করে। এই সিদ্ধান্তের পরই আরসিবি-র দীর্ঘদিনের শিরোপা খরা কাটে। রজতের নেতৃত্বেই প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় বেঙ্গালুরু। তাঁর ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বে দলটি কেবল একবার নয়, টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে।
নিলামে অবিক্রিত হওয়া এক ক্রিকেটার কীভাবে অধিনায়ক হিসেবে একটি দলকে ‘শূন্য থেকে শিখরে’ নিয়ে এলেন, সেই গল্প এখন আরসিবি ভক্তদের মুখে মুখে। রজত পাটিদার আজ কেবল একজন খেলোয়াড় নন, তিনি আরসিবি-র পুনরুত্থানের প্রধান কারিগর।