‘ইরান চুক্তি করতে মরিয়া’! ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির মাঝেই কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলা

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধবিরতির আশা নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সংঘাত নতুন করে অগ্নিগর্ভ রূপ নিল। মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করা এবং কুয়েতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের মিসাইল হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি এক ভয়াবহ সংকটের দিকে মোড় নিয়েছে।

ট্রাম্পের বিস্ফোরক দাবি:
এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দাবি করেছেন, ইরান আমেরিকার সঙ্গে একটি চুক্তিতে আসতে মরিয়া। ট্রাম্পের কথায়, “ইরান চুক্তি করতে চাইছে এবং এটি আমেরিকার জন্য অত্যন্ত লাভজনক হবে।” তিনি সমালোচকদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, “পিছন থেকে অনবরত ঘ্যানঘ্যানানি বন্ধ হলে আমার পক্ষে কাজ করা সহজ হতো। আপনারা চুপচাপ বসে রিল্যাক্স করুন, সব ঠিক হয়ে যাবে।”

বাস্তব চিত্র ঠিক উল্টো:
ট্রাম্পের শান্তির বার্তার বিপরীতে যুদ্ধক্ষেত্রে ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের (যা এখন অনেকের কাছে ‘তৃতীয় উপসাগরীয় যুদ্ধ’ নামে পরিচিত) ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি তেলের বাজারে।

সাম্প্রতিক সংঘর্ষ: মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, তাদের একটি MQ-1 ড্রোন গুলি করে নামানোর পর তারা ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ঘাঁটিতে পাল্টা বিমান হামলা চালিয়েছে। জবাবে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস দাবি করেছে, তারা কুয়েতের মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে শক্তিশালী মিসাইল হামলা চালিয়েছে।

হরমুজ প্রণালী সংকট: ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম আকাশছোঁয়া।

লেবানন পরিস্থিতি: ইসরায়েলি সেনার আগ্রাসন ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই এই সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে। মার্কিন সেক্রেটারি অব স্টেট মার্কো রুবিও পরিস্থিতি শান্ত করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্থবির আলোচনা:
ইরানের প্রধান আলোচক মহম্মদ বাঘের ঘালিবফ অবশ্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “আমেরিকাকে বিশ্বাস করা যায় না। জনগণের অধিকার সুরক্ষিত না হওয়া পর্যন্ত তেহরান কোনো চুক্তিতে রাজি হবে না।”

নভেম্বর মাসের মার্কিন নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্প একদিকে যেমন ইরানের পরমাণু অস্ত্র নির্মাণ বন্ধ করতে চাইছেন, অন্যদিকে যুদ্ধের আঁচ কমিয়ে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে মরিয়া। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার অভাব এই সংঘাতকে দীর্ঘস্থায়ী করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।