মেসির মূর্তিতে ইতি! হাওয়ায় দুলছিল বিশাল কাঠামো, শেষমেশ অপসারণের সিদ্ধান্ত প্রশাসনের

কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের কাছে আবেগের নাম লিওনেল মেসি। গত ডিসেম্বরে সেই প্রিয় ফুটবলারের সম্মানার্থে লেকটাউনে গড়ে উঠেছিল ৭০ ফুট উচ্চতার এক বিশাল মূর্তি। তবে সেই আবেগের মূর্তিকে ঘিরেই গত কয়েক মাস ধরে দানা বেঁধেছিল আতঙ্ক। অবশেষে জনসাধারণের নিরাপত্তার কথা ভেবে মূর্তিটি অপসারণের কাজ শুরু করল প্রশাসন।
কেন এই অপসারণ?
গত বছরের ডিসেম্বরে এই মূর্তির উদ্বোধন করেছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু। উদ্বোধনের পর থেকেই এটি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিল। কিন্তু মে মাসের শেষ দিকে প্রবল ঝোড়ো হাওয়ার সময় এলাকাবাসী লক্ষ্য করেন, বিশাল এই কাঠামোটি বিপজ্জনকভাবে দুলছে। এই দৃশ্য দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
কী বলছে বিশেষজ্ঞ দল?
পরিস্থিতি গুরুত্ব বুঝে পূর্ত দপ্তর (PWD) এবং আইআইটি খড়্গপুরের বিশেষজ্ঞরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। তদন্তে উঠে আসে, মূর্তির মূল কাঠামোতে তেমন সমস্যা না থাকলেও, এর ফাউন্ডেশন বা বেদিটি অত্যন্ত দুর্বল, যা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য উপযুক্ত ছিল না। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই মূর্তিটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।
কিভাবে সরানো হচ্ছে?
প্রশাসন জানিয়েছে, মূর্তির শিল্পমূল্য বজায় রাখতে এটিকে ভেঙে ফেলা হচ্ছে না। বরং হাইড্রোলিক ক্রেন ব্যবহার করে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে মূর্তিটিকে আলগোছে নামিয়ে আনা হচ্ছে, যাতে সেটিকে ভবিষ্যতে অন্য কোনো সুরক্ষিত স্থানে সংরক্ষণ করা যায়। তবে মূর্তির নিচে থাকা বিতর্কিত কংক্রিটের বেদিটি সম্পূর্ণরূপে ভেঙে ফেলা হবে।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
রবিবার সকাল থেকেই এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বাসিন্দাদের মতে, “জনপ্রিয় ফুটবলারের মূর্তি আমাদের গর্ব, কিন্তু মানুষের প্রাণ ঝুঁকির মুখে ফেলে সেটির অস্তিত্ব রাখার প্রয়োজন নেই।”
বর্ষা ও ঝড়ের মরশুমের কথা মাথায় রেখে প্রশাসনের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত সম্ভাব্য বড় বিপদ এড়াতে সাহায্য করেছে। আপাতত মূর্তিটি নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।